বাংলাদেশী অধ্যুষিত নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় আনুষ্ঠিত হলো বছরের শেষ ‘জ্যামাইকা মেলা’। ২৭ আগষ্ট শনিবার দিনব্যাপী স্থানীয় হিলসাইড এভিনিউস্থ সুসান বি এন্থনী স্কুল (১৮২ ষ্ট্রীট)-এর প্রে গ্রাউন্ডে (খোলা মাঠে) এই মেলার আয়োজন করা হয়।

জ্যামাইকাবাসী বাংলাদেশীদের সার্বিক সহযোগিতায় এই মেলার আয়োজন করেন কমিউনিটির পরিচিত মুখ, বাংলাদেশ সোসাইটির তিন তিনবারের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও বোম্বে ভিডিও এন্ড প্রিন্টিং স্টোরের স্বত্তাধিকারী বাহালুল সৈয়দ উজ্জল।

বেলা ১২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলে। মেলায় ছিলো হরেক রকমের স্টল। মেলাটি সকলের জন্য উন্মুক্ত (ফ্রি) থাকায় শত-সহস্র প্রবাসী বাংলাদেশী সপরিবারে মেলার অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করেন। এছাড়া ভিনদেশীদেরকেও মেলাটি উপভোগ করতে দেখা যায়। সবমিলিয়ে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবারের মেলা ছিলো ভিন্ন ধর্মী আর ভিন্ন আঙ্গীকের সফল মেলা-এমন দাবী আয়োজকদের।
দুপুর থেকে মেলার কর্মকান্ড শুরু হলেও মেলায় দর্শক-শ্রোতার সমাগম ঘটে শেষ বিকেলে। চমৎকার আবহাওয়ায় রং বে রং-এর বাহারী পোশাক পরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধদের মেলায় যোগ দিতে দেখা যায়। সন্ধ্যায় পরও ্ৈবদ্যুতিক আলো-আধারীতে হাজারো দর্শক-শ্রোতা মেলা উপভোগ করেন। খবর ইউএনএ’র।

মেলায় আমন্ত্রিত অতিথি অ্যাসেম্বলীওম্যান এলিসিয়া ও সিটি কাউন্সিলম্যান ড্যানিক মিলার অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বক্তব্য রাখেন। সন্ধ্যায় ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উৎসব ডট কম-এর ম্যানেজিং পার্টনার রায়হান জামান।

এছাড়া রং বে রং-এর এক গুচ্ছ বেলুন উড়ান এমনিল ফার্মাসিউক্যাল লি:-এর প্রতিনিধি গুনজন। এসময় বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মনজুর আহমেদ চৌধুরী, আব্দুল বাসিত খান বুলবুল, মেলার আয়োজক বাহলুল সৈয়দ উজ্জল সহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানমালা উপস্থাপনায় ছিলেন আবীর আলমগীর।

মেলা অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রবাসের বিশিষ্ট সমাজসেবী ও রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর এবং মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এটর্নী পেরী ডি সিলভার, মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার, বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ, উৎসব ডট কমের ম্যানেজিং পার্টনার রায়হান জামান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সোলায়মান খান প্রমুখ।

এছাড়া কমিউনিটির সেবায় অবদানের জন্য নিউইয়র্ক সিটির ডিষ্ট্রিক্ট-২৩’র কাউন্সিলম্যান ব্যারী গ্রডেনচিক-এর পক্ষ থেকে মেলানর আয়োজক বাহালুল সৈয়দ উজ্জলকে সাইটেশন প্রদান করা হয়। কাউন্সিলম্যান ব্যারীর প্রতিনিধি মেলার মঞ্চে তার হাতে সাইটেশন তুলে দেন।

মেলায় সন্ধ্যার পর জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী নচিকেতা উপস্থিত হন এবং সেখানে কিছু সময় কাটান। এসময় মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন তার সাথে ছিলেন। মেলার আয়োজক বাহলুর সৈয়দ উজ্জল শিল্পী নচিকেতাকে স্বাগত জানান।

মেলার সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে এস আই টুটুল ও অনুপমা মুক্তি এবং মাকসুদ ও ঢাকা ব্যান্ড সঙ্গীত ছাড়া প্রবাসের সুপরিচিত সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমী’র সুর বাহার-এর শিল্পী সহ স্থানীয় শিল্পীদের মধ্যে স্বপ্না কাওসার, চন্দন চৌধুরী, কামরুজ্জামান বকুল, তানভীর শাহীন, হাফিজুর রহমান, চন্দ্রা রায়, রোকসানা মির্জা, লিমন চৌধুরী, নাভিন, কান্তা আলমগীর, সোনিয়া, সোহেল পারভেজ, নাদিরা, রিনা চৌধুরী, শিশু শিল্পী আনিসা প্রমুখ সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

সাংস্কৃতিক পর্বে ঢাকার বাইরে প্রবাসে প্রথমবারের মতো ‘মেলায় যাইরে, মেলায় যাইরে.........’ জনপ্রিয় সঙ্গীতটি পরিবেশন করেন এই গানের শিল্পী মাকসুদ। গানটি পরিবেশনের সময় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতা নেচে-গেয়ে তা তা উপভোগ করেন। এছাড়াও শিল্পীরা বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে দর্মক-শ্রোতাদের আনন্দ দেন।

জ্যামাইকা মেলার প্রধান স্পন্সর ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, হিলসাইড হোন্ডা, উৎসব ডট কম এবং বোম্বে ভিডিও এন্ড প্রিন্টিং। অন্যান্য স্পন্সরগুলোর মধ্যে ছিলো কাওরান বাজার, ঘরোয়া রেষ্টুরেন্ট, ফ্যামিলি কেয়ার ফার্মেসী, এটর্নী পেরী ডি সিলভার ও সিলেট মটরস।

এদিকে জ্যামাইকা মেলা সফল করতে বাহলুল সৈয়দ উজ্জলকে আহŸায়ক, আব্দুল বাসিত খান বুলবুলকে প্রধান সমন্বয়কারী ও সাইফুল্লাহ ভ‚ঁইয়াকে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তা ছিলেন যুগ্ম আহŸায়ক মিরু শিকদার, শিবলী নোমানী, একেএম সফিকুল ইসলাম, শাহিন খান, ইমরুল আহসান কচি, সুজন রায় ও মোহাম্মদ মনসুর, সমন্বয়কারী আবু তাহির আসাদ, আব্দুল কাদির লিপু, এম এ মজিদ আকন্দ, স্বীকৃতি বড়–য়া, রজব আলী, রাব্বি সৈয়দ ও মনিরুজ্জামান মনির, যুগ্ম সদস্য সচিব আহনাফ আলম, ইসমাইল হোসেন স্বপন, আমিনুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, হায়দার আলী দেলোয়ার, এনাম সাকুর ও মোহাম্মদ দস্তগীর।

মেলা কমিটির উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন শরাফ সরকার, মোহাম্মদ আকতার হোসেন, সউদ চৌধুরী, ফখরুল আলম, ফাহিম রেজা নূর, ফখরুল ইসলাম খান, সোলায়মান খান, জহিরুল ইসলাম, আব্দুল কদ্দুস, ইলিয়াস খান, বোরহান উদ্দিন হাওলাদার, মোহাম্মদ মজিবর রহমান ও ওমর ফারুক খসরু।