শনিবার (১ অক্টোবর) উত্তর প্রদেশের কানপুর জেলায় তীর্থযাত্রা শেষে ফেরার পথে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি শনিবার সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্র্যাক্টরটি ৫০ জন আরোহী নিয়ে উন্নাওয়ের চন্দ্রিকা দেবী মন্দির থেকে ফেরার সময় কানপুরের ঘটামপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ট্র্যাক্টরটিতে মোট ৫০ জন আরোহী ছিলেন। তারা উন্নাওয়ের চন্দ্রিকা দেবী মন্দির থেকে ফিরছিলেন। সেই সময় কানপুরের ঘটামপুর এলাকায় ট্র্যাক্টর ট্রলিটি উল্টে পুকুরে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পাশাপাশি পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এরপর এলাকাবাসী ও পুলিশের সহায়তায় আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু ও মহিলা। এছাড়া গুরুতর আহত ২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
কানপুরের পুলিশ সুপার টি এস সিং জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেছিল পুলিশ।
ফলে উদ্ধারকাজ শুরু হতে বিলম্ব হয়। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে থানার ইনচার্জকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
অপরদিকে এ দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরও এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়।
সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদন হতে জানা যায়, কানপুরের আরহিন উড়ালপুরের কাছাকাছি একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টেম্পোর সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ৫ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বর্ষীয়ান মন্ত্রী রাকেশ সঞ্চন ও অজিত পাল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘কানপুরে ট্র্যাক্টর-ট্রলি দুর্ঘটনায় শোকাহত। প্রিয়জনদের যারা হারিয়েছেন তাদের সমবেদনা জানাই। আহতদের আরোগ্য কামনা করি। স্থানীয় প্রশাসন সকল দায়িত্ব পালন করছে।’
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ উদ্ধারকাজের তদারকি করার জন্য মন্ত্রী রাকেশ সাচান এবং অজিত পালকে দুর্ঘটনাস্থলে পাঠান। পাশাপাশি রাজ্যবাসীর কাছে যাতায়াতের জন্য ট্র্যাক্টর ট্রলি ব্যবহার না করার আহ্বানও জানান।
এন





