ইসরাইলের প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক ‘টাইমস অব ইসরাইল’ তার ওয়েবসাইট থেকে একটি আর্টিকেল সরিয়ে ফেলেছে। সেই আর্টিকেলটিতে গাজা উপত্যকায় গণহত্যা চালাতে ইসরাইলি বাহিনীকে উৎসাহ দেয়া হয়েছিল।
শুক্রবার (১ আগস্ট ২০১৪) টাইমস অব ইসরাইল পত্রিকায় একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয় যার শিরোনাম ছিল “গণহত্যা যখন অনুমোদনযোগ্য (When Genocide Is Permissible)”। কিন্তু পত্রিকাটির ওয়েবসাইট থেকে কয়েক ঘণ্টা পরই আর্টিকেলটি সরিয়ে দেয়া হয়।
এমন বিদ্বেষ ও হিংসাত্মক কোন লেখা কোন দেশের জাতীয় দৈনিকে ছাপা হতে দেখে যখন বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে এবং ফেসবুক ও টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়, তখনই পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আর্টিকেলটি সরিয়ে ফেলে পত্রিকাটি। তবে, এরইমধ্যে আর্টিকেলটির শিরোনামসহ ওয়েব পেইজটি বিভিন্ন ব্লগ থেকে শুরু করে নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।
ওই আর্টিকেলটির লেখক ইসরাইলি নাগরিক ইয়োকানান গর্ডন। তিনি তার টুইটার পেইজে লেখাটি পোস্ট করেছিলেন। গত ২৫ দিন ধরে গাজায় নারকীয় গণহত্যা চালানো সত্ত্বেও ওই ইহুদীবাদী নাগরিক তার আর্টিকেলে গাজায় আরও গণহত্যা চালাতে ইসরাইলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
অধিকাংশ ইহুদীবাদী নাগরিকের মতোই হিংসা-বিদ্বেষ লালনকারী ইসরাইলি নাগরিক গর্ডন লিখেছেন, বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে বিশ্ব নেতারা গত ছয় বছর ধরে ইসরাইলের হাত-পা বেঁধে রেখেছেন। ফিলিস্তিনিদের সাথে যুদ্ধ করার কোন বিকল্প নেই বলেও দাবি করেন ওই লেখক।
ইসরাইলি নাগরিকদের জন্য একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ বসতি নিশ্চিত করা- এমন খোঁড়া অজুহাতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজায় সাধারণ নাগরিকদের ওপর চালানো গণহত্যাকে যেভাবে বৈধতা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তার প্রতিও সমর্থন জানান ওই আর্টিকেলের লেখক গর্ডন।
প্রকাশিত আর্টিকেলে ইসরাইলি নাগরিক গর্ডন লিখেছেন, “If political leaders and military experts determine that the only way to achieve its goal of sustaining quiet is through genocide is it then permissible to achieve those responsible goals?” অর্থাৎ-“ইসরাইলের রাজনীতিবিদ এবং সামরিক বিশেষজ্ঞরা যদি দৃঢ়ভাবে এমন ধারনা পোষণ করেন যে ইহুদীদের জন্য একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে (ফিলিস্তিনে) গণহত্যাই একমাত্র সমাধান, তবে তা অনুমোদনযোগ্য” ।
শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনকেরি এক ইসরাইলি সেনাসদস্যকে অপহরণের জন্য ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের প্রতি নিন্দা জানিয়ে অপহৃত সেনাসদস্যকে অবিলম্বে মুক্তির আহবান জানানোর পরই গণহত্যার আহবান সম্বলিত ওই আর্টিকেলটি টাইমস অব ইসরাইলে ছাপা হয়।
৭২ ঘণ্টার মানবিক যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ভঙ্গ করে গাজায় পুনরায় গণহত্যা শুরুর মধ্য দিয়ে যায়নবাদী ইসরাইলিরা আবারও যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি করলেও তা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য না করে জনকেরি হামাসের হাতে অপহৃত এক ইসরাইলি সেনা সদস্যের মুক্তি নিয়ে ব্যাপক চিল্লাপাল্লা শুরু করেন।
তিনি বলেন, “গাজা উপত্যকায় এখনও নিয়ন্ত্রন রয়েছে যেই হামাসের হাতে তাদেরকে অবশ্যই নিখোঁজ ইসরাইলি সেনাসদস্যকে কোন শর্ত ছাড়াই অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। হামাসের ওপর যাদের প্রভাব আছে তাদের প্রতি আমি আহবান জানাচ্ছি এই বার্তা হামাসকে পৌছে দেয়ার জন্য”।
তবে, নিখোঁজ ইসরাইলি সেনা সদস্য সেকেন্ড লেফট্যানেন্ট হাদার গলডিনের নিখোঁজ বিষয়ে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই বলে দাবি করেছে হামাস।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় ব্যাপক হামলা শুরু করে দখলদার ইসরাইলিরা। আকাশ, সমুদ্র ও স্থল থেকে চালানো একের পর এক হামলায় এ পর্যন্ত ১৬,০০’র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৯ হাজার ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী নিহতদের ৮০ শতাংশেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক, যাদের একটি বড় অংশই আবার নারী, শিশু ও বৃদ্ধ।
এদিকে, ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জদিন আল কাসসাম ব্রিগেড ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের যৎসামান্য অস্ত্রশস্ত্র দিয়েই।
হামাসের এই পাল্টা প্রতিরোধের মুখে এ পর্যন্ত ৬০ সেনাসদস্য প্রান হারিয়েছেন বলে স্বীকার করেছে ইসরাইল। তবে, গত ২৫ দিনে হামাসের প্রতিরোধের মুখে ১৪৫জনেরও বেশি ইসরাইলি সেনা খতম হয়েছে বলে দাবি হামাসের।
ঢাকা, ২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





