হর্নের আওয়াজ নেই। পেট্রোল, ডিজেলের কালো ধোঁয়ার 'উৎকট' গন্ধ নেই। কংক্রিটের জঙ্গল, নিয়ন আলো, কফিশপ তাদের কাছে অলীক।
নাগরিক জীবনের যান্ত্রিক সভ্যতা থেকে বহু দূরে পানিতেই তাদের সংসার। খাবার পানির ব্যবস্থা হয়ে যায় পাহাড়ি ঝর্না থেকে। শীতকালে যেহেতু ঝর্নার পানি খুব ঠাণ্ডা হয়ে যায়, তাই বৃষ্টির পানি পান করা হয়। ফল, শাক-সবজি সবই নিজেদের বাগানের। আক্ষরিক অর্থেই তারা 'সবুজ দ্বীপের রাজা'। দুই সন্তানকে নিয়ে কানাডিয়ান দম্পতি ওয়েইন অ্যাডামস ও ক্যাথরিন কিং ভরা সংসার পানিতেই। ভাসমান বাড়িতে তাদের বসবাস দু'দশকের উপর।
শহর থেকে অনেক মাইল দূরে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার তোফিনো উপকূলে ১৯৯২ সালে ভাসমান বাড়িটি তৈরি করেন ওয়েইন অ্যাডামস ও ক্যাথরিন কিং। একেবারে নির্জনে প্রকৃতির কোলে একাধিক গ্রিন হাউস তৈরি করেন তারা। সবই কাঠের। মাথা গোঁজার জায়গার পাশাপাশি তাদের খাদ্যের উৎসও প্রকৃতি। নিজেরাই ভাসমান বাগান তৈরি করেন। সেখানে বিভিন্ন শাক-সবজি, ফলের চাষ।
পানিতেই তারা বানিয়েছেন একটি খামারবাড়িও। সেখানে মুরগি পালন চলে দিব্যি। বাইরের কোনো জন্তু-জানোয়ার মুরগির লোভে যাতে না হানা দেয়, তার জন্যে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থাও করেছেন তারা।
ঘরে বিদ্যুতের সংস্থানও সূর্যের আলো। সৌরবিদ্যুত্ তৈরি করেই যাবতীয় বিলাসিতা। রয়েছে একটি ভাসমান লাইটহাউসও। দেশ-বিদেশের নানা শিল্পকলা, ফুলের গাছ দিয়ে সাজানো। তবে স্বাধীনভাবে বসবাস করলেও অতিথি আপ্যায়নে কোনো খামতি রাখেন না অ্যাডামস ও কিং। অনেকেই তাদের খোঁজ পেয়ে 'আশ্চর্য' সংসার দেখতে ভিড় করেন তোফিনো উপকূলে। কিং দম্পতির আতিথেয়তায় সবাই মুগ্ধও হন।
ইআর





