পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের শেহওয়ান এলাকার লাল শাহবাজ মাজারে আত্মঘাতী হামলায় ৯ শিশু ও প্রায় ২০ জন নারীসহ অন্তত ৭৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দ্বায় স্বীকার করেছে আইএস জঙ্গি গোষ্টী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ এই হামলায় অনন্ত শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এটি পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা।

আইএস এর দ্বায় স্বীকার করার মাধ্যমে পাকিস্তানের স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনগুলো বিভিন্ন সতর্কবার্তা পাঠানো শুরু করেছে পাকিস্তান সরকারকে। এতে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ক্রমান্বয়ে হুমকির সম্মুক্ষীন হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে আরও বাড়তে পারে বলে জানায় স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।

স্থানীয় তালুকা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মঈনুদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, হাসপাতালে অন্তত ৪০ জনের লাশ এসেছে। এ ছাড়া চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে ১০০ জনকে আহত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়।

শেহওয়ান এলাকার সহকারী এসপি বলেন, আত্মঘাতী সন্ত্রাসী মাজারের গোল্ডেন গেট দিয়ে প্রবেশ করেছে। প্রথমে একটি গ্রেনেড ছোড়ার পর আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। তবে ছুড়ে দেওয়া গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হয়নি। মাজারে সুফি রীতি অনুযায়ী আজ সেখানে অসংখ্য ভক্তের সমাগম ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালসহ ওই এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য লিয়াকত মেডিকেল কমপ্লেক্স জামশরো ও সাব-ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় দেশটির সেনাবাহিনীর স্টাফ জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া আহত সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে পাশের হায়দরাবাদে সেনা হাসপাতালেও আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলী শাহ দেশটির জ্যেষ্ঠ সিভিল ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন করে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গত বছরের ১২ নভেম্বর বেলুচিস্তান প্রদেশের খুজদার জেলার শাহ নুরানি মাজারে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটে ঘটে। ওই হামলায় অন্তত ৫২ জন নিহত ও ১০২ জন আহত হন। ডন


জেড