প্রথমবারের মতো সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো।শনিবার করাচিতে প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি)সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিলাওয়াল। খবর এএফপি ও ডনের।

করাচির বাগ-ই-জিন্নাহ ময়দানে বিলাওয়ালের সমাবেশে যোগ দেয় দলীয় নেতা-কর্মীসহ লাখো জনতা। ২০০৭ সালের ১৮ অক্টোবর করাচিতে বেনজিরের সমাবেশে বোমা হামলার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে দেওয়া ভাষণে বিলাওয়াল বলেন, কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ গড়েছিলেন পাকিস্তান। আর ১৯৭৩ সালে সংবিধান উপহার দিয়ে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে গেছেন জুলফিকার আলী ভুট্টো।

পিপিআই ও পিএটি এর সমালোচনা করে বিলাওয়াল বলেন, "পাকিস্তানে যদি সামরিক সরকার থাকত তাহলে রাজধানীতে যাঁরা অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন, জঙ্গি বিমান থেকে বোমা ফেলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হতো।এই দল দু'টির কর্মসূচি প্রত্যাহারেরও আহবান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগ দাবিতে দুই মাস ধরে রাজধানী ইসলামাবাদে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিপিআই) ও তাহির উল কাদরির দল পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক (পিএটি)।

ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লিগের (নওয়াজ) সমালোচনা করে বিলাওয়াল বলেন, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (নওয়াজের ভাই) সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়াউল হকের সৃষ্টি।

সাত বছর আগে স্বেচ্ছানির্বাসনের পর বেনজিরের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সে সমাবেশে বোমা হামলায় ১৩৯ জন নিহত হলেও বেঁচে যান বেনজির। তবে এর দুই মাস পর রাওয়ালপিন্ডিতে নির্বাচনী সমাবেশে গুলি ও বোমা হামলায় নিহত হন পাকিস্তানের দুবারের ওই প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো।

এছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিলাওয়ালের বাবা দলের কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি ও আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

 

ইআর