ভারতের সুপ্রিমকোর্ট দেশটির সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার ওপরে নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশ হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, পার্শিসহ প্রত্যেক ধর্মীয় স্থানের জন্যই প্রযোজ্য হবে। খবর বিবিসির।
মূলত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদ, ধর্মস্থানে ভক্তদের প্রবেশাধিকার, পরিচ্ছন্নতা- এসব বিষয়ের ওপরে নজর রাখবেন জেলা স্তরের বিচারকরা।
ভারতে প্রায় ২০ লাখ হিন্দু মন্দির, তিন লাখ মসজিদ এবং কয়েক হাজার চার্চ ও গুরদোয়ারা রয়েছে। এছাড়াও আছে জৈন, বৌদ্ধ, পার্শি ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের নিজস্ব ধর্মীয় উপাসনালয়।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সম্পদের হিসাব আর আর্থিক ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত ওই নির্দেশ দেন।
তবে শুধু কোনও একটি মন্দিরের মধ্যে বিষয়টিকে না রেখে সব ধর্মের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব, সম্পদ ও অন্য ব্যবস্থাপনার ওপরেই আদালতের নজরদারি করার কথা বলেছেন সুপ্রিমকোর্ট।
উড়িষ্যার বাসিন্দা মৃণালীনি পাধি সুপ্রিমকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন যেটিতে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
সেই মামলার শুনানিতেই আদালত মনে করে যে শুধু ওই বিখ্যাত মন্দিরটি নয়, ভারতের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের ওপরেই আদালতের নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
কয়েকটি হিন্দু মন্দিরের সম্পদ প্রচুর। বিশ্বে সবচেয়ে ধনী হিন্দু মন্দিরগুলোর অন্যতম - দক্ষিণ ভারতের তিরুপতির বালাজী মন্দির। এ মন্দিরের সম্পদ কয়েক হাজার কোটি টাকা। পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরেও কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
তেমনি প্রচুর সম্পদ রয়েছে আজমির শরিফের মতো দরগারও। হিন্দু মন্দিরগুলোর সম্পদের মধ্যে যেমন- স্বর্ণ, হিরা, রুপা আছে, তেমনই আছে অর্থ আর জমি।
তিরুপতির মন্দির পরিচালন কমিটি গত বছর প্রায় দুই হাজার ৮০০ কিলোগ্রাম স্বর্ণ ব্যাংকে জমা করেছে। প্রতি বছর প্রায় এক টন স্বর্ণ ভক্তরা ওই মন্দিরে দান করেন।
এমআর





