বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাজার গড়তে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে বহুল আলোচিত ‘ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি)’ বা ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে ১২টি দেশ।

বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে এসব দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে এখনই চুক্তিটি চূড়ান্ত হচ্ছে না । জোটের সদস্যরা চুক্তিটির বিষয়বস্তু সংশোধন বা প্রত্যাখ্যান করতে দুই বছর করে সময় পাচ্ছেন।

টিপিপি জোটভুক্ত দেশগুলো হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রুনেই, চিলি, জাপান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম। এই দেশগুলো বর্তমানে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এই চুক্তির ফলে দেশগুলো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনা শুল্ক সুবিধা পাবে। এ ছাড়া এ চুক্তির ফলে জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো একটি একক বাজার সৃষ্টি হবে।

বৃহস্পতিবার টিপিপি চুক্তিতে সর্বপ্রথম স্বাক্ষর করেন অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী অ্যান্ড্রিউ রোব। সর্বশেষ স্বাক্ষর করেন নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টোড ম্যাকক্লে।

তবে চুক্তিটির বিরুদ্ধে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভিন্ন মত রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বহুজাতিক বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান এই চুক্তি থেকে লাভবান হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চাকরির বাজার সরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্বল্প মূল্যের শ্রমবাজারে চলে যাবে। এর ফলে উন্নত দেশগুলোতে বেকারত্ব সমস্যা দেখা দেবে। এই চুক্তির ফলে অনেক দেশকেই তাদের সার্বভৌমত্ব কিছুটা জলাঞ্জলি দিতে হবে। কারণ চুক্তির অনেক বিষয় বাস্তবায়িত করতে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনে পরিবর্তণ আনতে হবে। এ ছাড়া চুক্তির অনেক বিষয়ই গোপনীয় রাখায় জনসাধারণ এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে অজ্ঞাতই থেকে যাবে।

এর জবাবে চুক্তি স্বাক্ষরকারীর দেশগুলো জানিয়েছে, এসব অভিযোগ সবই পুরনো। নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টোড ম্যাকক্লে বলেন, ‘যখনই কোনো দেশ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে তার মানে হচ্ছে, সেই দেশকে তার আইন পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের সঙ্গে চীনের অনেক উচ্চ পর্যায়ের ও সাফল্যমণ্ডিত মুক্তবাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তির বদৌলতে যেসব চীনা পণ্য নিউজিল্যান্ডে আসে সেগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা আমরা পার্লামেন্টের কাছে হস্তান্তর করেছি।’

এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এই অংশদারিত্ব চীনের মতো অগ্রবর্তী অর্থনৈতিক দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রকে অধিক সুবিধা দেবে।

এমএইচ