১৬ বছরের অনশন ভেঙে রাজনৈতিক মাঠে মণিপুরের লৌহমানবী ইরম শর্মিলা চানু। গত আগস্টে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন তিনি।এতে তার উপর থেকে উঠে যায় মামলা পান মুক্তিও।স্বাভাবিক জিবনে ফিরে এসে পিপল্স রিসার্জেন্স অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স গড়ে তোলেন । এরমাঝে কেজরিওয়াল দর্শনও করেছেন এই মণিপুরী।
কিভাবে শূন্য থেকে শুরু করে সরকার ভাঙার যায় তার দিক্ষা নিয়ে ভোটের মাঠে শর্মিলা। রাজনীতিতে পেয়েছিলেন বিজেপির প্রস্তাব তবে তাতে সাড়া দেননি এই লৌহমানবী ।
ভোটারদের কাছে যেতে বেছে নিয়েছেন সাইকেল । তাই গাড়ি নয়, ভোট প্রচার চালাবেন সাইকেলে। বিধানসভার ভোটে হারলেও লড়াই ছাড়বেন না । প্রস্তুত হবেন লোকসভার জন্য। লক্ষ্য একটা বিদায় হোক আফস্পা ।
প্রচারণার শুরুতে শর্মিলা বলেন, না খেয়ে লড়ে ফল মেলেনি। তাই এ বার অন্য ময়দানে অস্ত্র শান দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।প্রথমেই নাগা অধ্যূষিত উখরুল সফরে গিয়েছিলেন চানু। সেখানে তখন আফস্পা বিরোধী আন্দোলন চলছিল।
১৬ বছরের অহিংস, অনশন আন্দোলন কাজে না আসায় বাধ্য হয়েই তিনি অন্য রাস্তায় হাঁটছেন। তিনি আরো জানান "আফস্পা হঠানো আমার নৈতিক দায়িত্ব। তার জন্য আমার লড়াই চলবে। রাজ্য থেকে আফস্পা হঠাতে যে কোনও উপায়ে লড়ব আমি।"
শর্মিলা অনশন ভাঙার পরে জানিয়েছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ তাঁকে গ্রহণ না করলে, পরাজয় মাথা পেতে নেবেন তিনি। তারপর প্রেমিক ডেসমন্ড কুটিনহোকে বিয়ে করে বিদেশে বা ভিন রাজ্যে সংসার করবেন।
কিন্তু অনশন ভাঙার পর থেকে আর ডেসমণ্ডের দেখা মেলেনি। শর্মিলার পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা বার বার দাবি করেছেন ডেসমণ্ডের প্রেম লোক দেখানো। তা শর্মিলাকে দুর্বল করে তাঁর অনশন ভাঙানোর সরকারি ষড়যন্ত্র। সেই আশঙ্কা সত্যি হওয়া মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন শর্মিলা। কিন্তু নিজের সঙ্গে লড়াই করে ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
বিধানসভায় হেরে গেলেও পরোয়া নেই, পালাবেন না যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে বলেও জানান এই লৌহমানবী।
সূত্র আনন্দবাজার
নাজিব





