ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিশেষ করে মুসলিম শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈষম্যের শিকার হয় বলে এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। ধর্মীয় ও জাতিগতভাবে অন্যান্য সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীরাও এই বৈষম্যের শিকার হয়।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এ গবেষণাটি চালিয়েছে। এইচআরডব্লিউয়ের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে এনডিটিভি।
স্কুলে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে রুম পরিষ্কার করানোর মতো কাজও করানো হয়। এ ছাড়া, দুপুরের খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের দেরিতে খাবার দেয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের আলাদা বেঞ্চে বসতে বাধ্য করা হয় বলেও গবেষণা থেকে জানা গেছে।
সম্প্রতি ৭৭ পৃষ্ঠার গবেষণাটি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে এইচআরডব্লিউ। রাজধানী নয়াদিল্লি, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ ও বিহারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরিপ গবেষণা পরিচালনা করে এইচআরডব্লিউ। এতে ১৬০ জন শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উপর গবেষণা পরিচালনা করা হয়। প্রসঙ্গত, এই চারটি প্রদেশে নিম্ন মর্যাদার দলিত গরিব সম্প্রদায়, উপজাতীয় গোষ্ঠী ও মুসলিমদের সংখ্যাধিক্য রয়েছে।
অনেক শিক্ষকই শ্রেণীকক্ষে ধর্ম ও জাতিগতভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের সৃষ্টি করেন। প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকদের অবহেলার শিকার হয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তারা পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেয়।
গবেষণা প্রতিবেদনটির লেখক জয়শ্রী বাজোরিয়া এ ব্যাপারে বলেন, "স্কুলের শিক্ষক ও অন্যান্য স্টাফদের আচরণের কারণে শিশু শিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের বিশাল প্রজেক্ট এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এসব শিক্ষক ও স্টাফ গরীব ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে দিচ্ছেন।"
তিনি আরো বলেন, "দলিত বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কারণে তারা ঝরে পড়ছে। হয়তোবা ওই ছেলেটি বা মেয়েটিই ছিল ওই পরিবারের প্রথম স্কুলে যাওয়া মানুষটি।"
মুসলিম শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-তাদেরকে পেছনের বেঞ্চে বা আলাদা রুমে বসতে বাধ্য করা হয়। তাদের নাম ডাক ব্যঙ্গ করে, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাদেরকে দূরে রাখা হয় এবং খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদেরকে সবার শেষে খাবার দেয়া হয়।
কিছু শিক্ষার্থী জানিয়েছে, তারা কালো হওয়ার কারণে শিক্ষকদের অবহেলা ও অবমাননার শিকার হয়। এরা সাধারণত দলিত শ্রেণীর ছেলেমেয়ে। অন্যদিকে, মুসলিম শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তাদেরকে 'মোল্লা' বলে গালি দেয়া হয়।
দেশটির পার্লামেন্টে ২০০৯ সালে আইন পাস হয় যে, ৬ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত শিশুদের স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত করা। দেশটির নব্বই শতাংশেরও বেশি এলাকাতে এটি কার্যকরও করা হচ্ছে।
কিন্তু ক্লাসরুমে যারা বৈষম্যের সৃষ্টি করেন তাদের শাস্তির ব্যাপারে আইনে কিছু বলা নেই। শিক্ষা বিষয়ক কর্তৃপক্ষও কোন মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারেনি; যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকানো যায়। সূত্র: এনডিটিভি
[b]ঢাকা, ২২ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি) //এমএ[/b]
আন্তর্জাতিক
ভারতে বৈষম্যের শিকার মুসলিম শিক্ষার্থীরা, বলা হয় 'মোল্লা'
ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিশেষ করে মুসলিম শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈষম্যের শিকার হয় বলে এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। ধর্মীয় ও জাতিগতভাবে অন্যান্য সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীরাও এই বৈষম্যের শিকার হয়।





