লন্ডনের শেখ হাসিনার অবস্থানরত তাজ হোটেলের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো ২০ দলীয় তীব্র বিক্ষোভ অব্যাহত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীরা।

নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নসহ গুম-খুন ইস্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিভিন্ন দাবি দাওয়া সংক্রান্ত পোস্টারসহ তারা স্লোগানও দেয়।

দ্বিতীয় দিনেও তীব্র বিক্ষোভ মুখে পড়ে শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের নেতা কর্মীরা। সোমবার বেলা তিনটার দিকে বিএনপির একটি বিশাল মিছিল তাজ হোটেলের সামনে দিয়ে আসার সময় আতঙ্কিত শেখ হাসিনা তাঁর হোটেলের রূমের জানালা বন্ধ করে দেয় এবং আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ভয়ে দ্রুত পালিয়ে হোটেলের ভিতরে প্রবেশ করে।

গত রোববার বিক্ষোভের সময় আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থক উপস্থিত থাকলেও কিন্তু সোমবারের বিএনপির বিক্ষোভের পাল্টা জবাবে আওয়ামী লীগের মাত্র আট জন নেতা কর্মীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

এদিকে শেখ হাসিনা বারবার তাজ হোটেলের জানালা দিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দিয়ে দেখছে বাহিরের পরিবেশ কখন শান্ত হবে এবং বোনের মেয়ের বাসায় যাবে। গতকাল হাসিনা লন্ডনের তাজ হোটেলে আতঙ্কিত অবস্থায় সময় পার করেছে । বিশ দলীয় জোটের প্রতিবাদ বিক্ষোভের মুখে আজ সারাদিন হোটেল থেকে বাহিরে বের হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে সেন্ট্রাল লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টারের তাজ হোটেলের সামনে স্থানীয় সময় বেলা ৩ টা থেকে ৭টা পর্যন্ত অবস্থান করে ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীরা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন জোনের নেতাকর্মীরা। গতকাল হাসিনাকে না পেয়ে তাঁর হোটেলের জানালাকে লক্ষ্য করে ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীরা বৃষ্টির মতো বোতল, পঁচা ডিম, ঝাড়ু, জুতা, ঢিল ছুড়ে মারতে থাকে। আর নেতা কর্মীরা শ্লোগান দিতে থাকে।

বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, ‘বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে। অবিলম্বে হাসিনাকে পদত্যাগ করে জাতীয় নির্বাচন দিতে হাসিনাকে বাধ্য করা হবে।

এই মহিলার বিন্দুমাত্র লজ্জা শরম নেই। গণতান্ত্রিক দেশ বৃটেনে কোনো স্বৈরাচারের জায়গা হবে না। শেখ হাসিনার লুটপাট আর স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের এই গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ব্রিটেনে অব্যাহত থাকবে।’

যেখানেই হাসিনা সেখানেই প্রতিরোধ এই মর্মে শপথ নিয়ে কর্মসূচি সফল করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনা যতদিন এখানে অবস্থান করবেন, নিয়ম করে প্রতিদিন এই হোটেলের সামনে ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে।

যুক্তরাজ্য বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ বলেন, ‘৫ জানুয়ারির অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে তিনি দেশে বাকশাল কায়েম করেছেন, তাই আমরা তাকে ব্রিটেনে স্বাগত জানাতে পারি না।’

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে ওয়েস্ট মিনিস্টারের তাজ হোটেলের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ইউকে বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালেকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, যুক্তরাজ্য বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ, বিএনপির নেতা আব্দুল হামিদ চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, লুৎফর রহমান, আকতার হোসেন, গোলাম রব্বানী, ফরিদ উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, শামসুর রহমান, জসিম উদ্দিন, নাসিম আহমেদ চৌধুরী, ইব্রাহিম মিয়া, গাজী মুহম্মদ আল আমিন, খসরুজ্জামান খসরু, জাহেদ আলী, শামীম আহমেদ, নসরুল্লাহ খান যুনায়েদ স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক পারভেজ মল্লিক, সাংবাদিক নুরে আলম, ছাত্রনেতা হাসিবুল হাসান, নাজমুল হাসান জাহিদ,সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফরিদুল ইসলাম, মুহম্মদ এবি সেলিম, সাংবাদিক মাহবুব আলী খানশূর, মনিরুল হক, অনলাইন একটিভিসট শরিফুজ্জামান তপন, বিএনপি নেতা শাহিন আহমেদ, মানবাধিকারকর্মী এসকে তরিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, গরীব হোসেন, মাহবুব আলম তোহা, আমিনুল ইসলাম, শরফুজ্জামান শরফু, আব্দুল মতিন প্রমুখ।

এদিকে ব্রিটিশ সংসদের একজন সদস্য বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সংসদে বাংলাদেশ সংক্রান্ত সর্বদলীয় কমিটির সহ-সভাপতি সায়মন ড্যানজুক অভিযোগ করেছেন, যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং বাক স্বাধিনতা ‘ধসে পড়েছে।

বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে খুনী হিসেবে চিহ্নিত করে পদত্যাগ করে জাতীয় নির্বাচন দেয়ার দাবী জানিয়ে স্লোগান দেয়। তারা যেসব প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন তাতে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী মত 'দমন' এবং 'গণতন্ত্রকে বিপন্ন' করার অভিযোগ করা হয়।

যুক্তরাজ্য বিএনপির বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন দিয়ে মি: ড্যানজুক এক বিবৃতিতে সিরিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন বাংলাদেশ ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হলে সেটা ব্রিটেনের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে।

‘বাংলাদেশে সংঘাত যদি বাড়তে থাকে তাহলে অনেক বেশি মানুষ নিরাপত্তার সন্ধানে সীমান্ত অতিক্রম করবে। আমি বলবো, অনেক বাংলাদেশী উদ্বাস্তু এদেশে আসতে পারে এবং সেই পরিস্থিতি সামাল দেয়া ব্রিটেনের জন্য কঠিন হবে,’ তিনি বলেন।

এমবি