প্রায় ৬ বছর আগে সাহসী নেতৃত্ব, মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগ ও নির্বাসিত থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মিউজিয়াম থেকে 'ইলি উইসেল' নামে একটি মানবাধিকার পদক লাভ করেন বর্তমান মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি।

যে চরিত্রের জন্য তিনি এই পদক বা খেতাব লাভ করেন সে চরিত্র আর ধরে রাখতে পারলেন না অং সান সুচি। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতনে সুচির অবস্থান তার নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আর তাই সুচির এই নৈতিক পদঙ্খলনের জন্য তাকে দেওয়া 'ইলি উইসেল' অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাহার করে নিলো হলোকাস্ট মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের নির্যাতনের শিকারদের স্মরণে ওয়াশিংটনে এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বুধবার এক পত্র বিবৃতির মাধ্যমে পদক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানায় মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ।

বিবৃতিতে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানায়, '২০১৬ এবং ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর মিয়ানমারের সামরিক আক্রমণ ও বর্বরতায় আমরা এবং বিশ্ববাসী আশা করেছিলাম, আপনি একজন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মানবাধিকারের সংরক্ষক হিসেবে এই নির্যাতনের প্রতিবাদ করে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াবেন। বর্বর নির্যাতন বন্ধে আপনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন।'

'কিন্তু তা না করে তার বিপরীতে আপনি এবং আপনার রাজনৈতিক দল 'ন্যাশানাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি' রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতনে সমর্থনসহ জাতিসংঘকে এই বিষয়ে তদন্তে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। যেটা আমরা এবং আমাদের পদকের মর্যাদা কোনভাবে আশা করি নাই।'

সুচির ন্যাশানাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি রোহিঙ্গা নির্যাতন অঞ্চলগুলো অর্থ্যাৎ রাখাইন অঞ্চলে সাংবাদিকদেরও প্রবেশ করতে দেয় না।

দেশের সামরিক শাসনের বিরোধীতা করায় ১৫ বছর গৃহবন্দী থাকতে হয়েছিল সুচিকে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার অবদানের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে তাকে তুলনা করা হতো এবং ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উপাধি লাভ করেন সুচি।

কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির অবস্থান নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই একে একে কেড়ে নেয়া হচ্ছে তার পদক।

কেড়ে নেয়া হয়েছে তাকে দেয়া সম্মানসুচক অক্সফোর্ড 'সিটি অব ফ্রিডম' পদক। সর্বশেষ একই রকম ঘোষণা দিয়েছে গ্লাসগো সিটি কাউন্সিল।

তারা ২০০৯ সালে গৃহবন্দি থাকা অং সান সুচিকে 'ফ্রিডম অব গ্লাসগো' পদকে ভূষিত করে। কিন্তু তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে একেবারে নিষ্ক্রিয় থাকায় তা কেড়ে নিয়েছে গ্লাসগো সিটি কাউন্সিল। এছাড়া অনেক আন্তর্জাতিক পদক তার থেকে কেড়ে নেওয়া হয়।

জেড