বহুল আলোচিত হিজাব মামলা জরুরি ভিত্তিতে শুনতে রাজি হলো না ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার (১৬ মার্চ) দেশটির শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, হোলির ছুটির পরই মামলাটির শুনানি হতে পারে। তার আগে নয়। কারণ আদালতের কাছে আরো অন্য জরুরি মামলা আছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের হিজাব পড়া নিয়ে কর্নাটক হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছিল। বুধবার মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শোনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে অনুরোধ জানান প্রবীণ আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে। কেন জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি শোনা দরকার, তার কারণও তিনি ব্যাখ্যা করেন আদালতের কাছে।

সঞ্জয় বলেছিলেন, ‘মামলাটি আগে শোনা জরুরি, কেননা হাজার হাজার ছাত্রী এই রায়ের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছেন। যাতে তারা কলেজে যেতে পারেন।’

জবাবে দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রমন জানিয়ে দেন, ‘আরো অনেকেই জরুরি ভিত্তিতে মামলা শোনার কথা বলেছেন। আমরা মামলাটি হোলির ছুটির পর শুনব।’

শীর্ষ আদালতে যে মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শোনার অনুরোধ করা হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট মুসলিম এবং অ-মুসলিম ছাত্রীদের মধ্যে অকারণ বিভেদ তৈরি করেছে। যা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবনার বিরোধী। যে মৌলিক ভাবনাগুলোর উপর ভিত্তি করে দেশের সংবিধান তৈরি হয়েছে, তারও বিরোধী।

সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারী এ-ও জানিয়েছিলেন, মামলাটি আগে শোনা দরকার, কেননা কলেজে ইতোমধ্যেই প্রিপারেটরি পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। হিজাব বিতর্কের সমাধান না হওয়ায় মুসলিম ছাত্রীরা ক্লাস করতে পারছেন না।

গত ১ জানুয়ারি কর্নাটক রাজ্যের উদুপিতে একটি প্রি-ইউনিভার্সিটিতে কয়েকজন হিজাব পরিহিত ছাত্রীকে ক্লাসে বসতে বাধা দেয়া হয়। কলেজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি বিজেপি বিধায়ক রঘুপতি ভট্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হিজাব পরিহিতরা ক্লাসে ঢুকতে পারবেন না। সেই বিতর্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রাজ্য জুড়ে। হিজাবের পাল্টা হিসেবে গেরুয়া উত্তরীয় পরে আন্দোলন শুরু করে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। কয়েকটি জায়গায় হিজাবের পক্ষে-বিপক্ষে আন্দোলনকারীরা মুখোমুখি হয়ে পড়ে। পুলিশের সাথেও একাধিক সংঘর্ষ ঘটে। কয়েকটি জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সব স্কুল-কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।

গত ২৬ জানুয়ারি কর্নাটক সরকার এ বিষয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। ঘোষণা করা হয়, কমিটি নির্দিষ্ট সুপারিশ করার আগ পর্যন্ত ছাত্রীরা কেবলমাত্র ইউনিফর্ম পরেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে পারবেন। হিজাব বা গেরুয়া উত্তরীয়— কিছুই পরার অনুমতি নেই। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উদুপির কয়েকজন ছাত্রী কর্নাটক হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করেন। তারা আদালতকে জানান, হিজাব পরা তাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। কোনোভাবেই তা বাতিল করা যায় না।

১০ ফেব্রুয়ারি কর্নাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রিতুরাজ অবস্তি, বিচারপতি কেএস দীক্ষিত ও বিচারপতি জেএম খাজি অন্তর্বর্তী রায়ে বলেন, ‘যত দিন না রায় ঘোষণা হচ্ছে, কর্নাটকে স্কুল-কলেজ খুলতে পারে কিন্তু কোনো শিক্ষার্থী ধর্মীয় প্রতীকমূলক কোনো কাপড় পরে আসতে পারবেন না।’

এই মামলায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কর্নাটক সরকার বলে এসেছে, হিজাব পরা ইসলামের বাধ্যতামূলক অনুশীলনের মধ্যে পড়ে না। মঙ্গলবার হাইকোর্টের রায়েও উঠে এল তা। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

এবিএস