কাশ্মীরকে বলা হয় ভূস্বর্গ। এতটাই দৃষ্টি নন্দন আর মনোরম এর প্রকৃতি। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর থেকে শুরু করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও মজেছিলেন এর অপরূপ রূপে। তার ‘বলাকা’ কাব্যগ্রন্থের কিছু কবিতা লিখেছিলেন কাশ্মীরে বসেই।
অনিন্দ্য সুন্দর কাশ্মীরের মাটিতে মৃত্যুবরণ করতে চেয়েছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীর। কেবল বিখ্যাত ব্যক্তিরাই নন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ যান কাশ্মীর ভ্রমণে। বেড়ানোর জন্য আমাদের অনেকেরই প্রিয় স্থান এটা।
জানা যায়, বিখ্যাত উলার হ্রদের তীরে গ্রামটি অবস্থিত। কাশ্মীরের বান্ডিপুরা জেলার আলুসা তহশিলে এ গ্রামের নাম বাংলাদেশ। বান্ডিপুরা-সোপুরের মাঝ দিয়ে মাটির রাস্তা ধরে ৫ কিলোমিটার হাঁটলেই পাওয়া যায় গ্রামটি।
সূত্র জানায়, গৃহহীন হয়ে পড়ে নিরীহ সাধারণ মানুষ। তখন পুড়ে যাওয়া জায়গা থেকে কিছুটা দূরে পার্শ্ববর্তী ফাঁকা জায়গায় সবাই মিলে ঘর তোলেন।
একই সময় গৃহহীন মানুষগুলো দুঃসময় মোকাবেলা করতে শুরু করে। তাই তারা তাদের নতুন গ্রামের নাম রাখে ‘বাংলাদেশ’। ২০১০ সালে বান্ডিপুরার ডিসি অফিস ‘বাংলাদেশ’ নামক গ্রামটিকে আলাদা গ্রামের মর্যাদা দেয়। ৫-৬টি ঘর দিয়ে শুরু হওয়া গ্রামে এখন পঞ্চাশেরও বেশি ঘর রয়েছে।
কোথায় যেনো একটা মায়া কাজ করে শুনলে। বিশেষ করে যে গ্রামটির জন্ম একাত্তরে, স্বাধীন বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটি জন্মের বছরে! এই হিম শীতল দিনে এই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেই ‘বাংলাদেশ’র বসিন্দাদের প্রতি অ-নে-ক শুভকামনা। ভালো থেকো বাংলাদেশ, যুগ যুগ এমনকি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে।
বাংলাদেশ নামক সেই গ্রামের মানুষের প্রধান জীবিকা হচ্ছে মাছ ধরা। পাশাপাশি পানি বাদাম সংগ্রহ করাও গ্রামবাসীর অন্যতম প্রধান কাজ।
এএস





