বিশ্বে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ হাজার কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার হয়। পরে সাংসারিক দায়িত্ব, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ এবং মাতৃত্বজনিত সমস্যাসহ নানা কারণে বাধ্য হয় পড়াশোনা ছেড়ে দিতে।

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক ও সেভ দ্যা চিলড্রেনের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বিশ্বের ১১২টি দেশের ওপর গবেষণা চালানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাল্যবিবাহ আইনত নিষিদ্ধ এমন দেশগুলোতেও প্রতিবছর গড়ে ৭৫ লাখ মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার।

আর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতি তিন জনে একজন মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার। পরে নানা কারণে পড়াশোনার ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধের শিকার হয়ে লেখাপড়া বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে তারা। এমন একটি দেশ তানজানিয়া। সেখানে অন্তঃসত্ত্বা মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষেধ।

অবশ্য গত দু’বছরে দেশটিতে বাল্যবিবাহ প্রতিহত করতে কিছু পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। মেক্সিকো এবং জিম্বাবুয়ে সহ আরো ১০টি দেশ বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করেছে। এক্ষেত্রে হয় তারা বৈধ বিবাহের বয়সসীমা উঠিয়ে নিয়েছে, নতুবা পরিবার ও আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তা বৈধ ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কমানোর বিষয়টিও উঠে এসেছে ওই প্রতিবেদনে। বলা হয়, বাল্যবিবাহের উচ্চহার থাকা সত্তেও মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কমিয়েছে বাংলাদেশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, মোট বাল্যবিবাহের দুই-তৃতীয়াংশই হচ্ছে এমন সব দেশে যেখানে তা নিষিদ্ধ। এ থেকে বোঝা যায় যে, এসব দেশে বাল্যবিবাহ সংশ্লিষ্ট আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই। আবার অনেক দেশে বিয়ের ন্যূনতম বয়স জাতীয় আইনের ভিত্তিতে নির্ধারণ না করে ধর্মীয় এবং সামাজিক রীতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।

এর ফলে আইনের প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে। সেভ দ্য চিলড্রেনের পলিসি, অ্যাডভোকেসি এবং ক্যাম্পেইনের নির্বাহী পরিচালক ক্রিস্টি ম্যাকনেইল বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত একটি বৈষম্যহীন পৃথিবী তৈরি হবে না। যেখানে ছেলে ও মেয়ে উভয়েই জীবনে সফলতা অর্জনের সমান সুযোগ পাবে।

কারণ, একটি মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে হওয়া মানে হলো নানা দায়িত্বের ভারে অথবা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার কারণে তার স্কুল ছেড়ে দেয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়া।

তিনি বলেন, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে আইনগত বিধিনিষেধ আরোপ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু লাখো কোটি মেয়ে বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতেই রয়ে যাবে যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথিবীব্যাপী সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে না উঠবে।

বাল্যবিবাহ চিরতরে নির্মূল করার জন্য আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। এ মাসে সেনেগালে অনুষ্ঠেয় ‘বাল্যবিবাহ রোধকরণ’ সম্মেলনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত এ গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
জেড