পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল অব. মো হাবিব জহির নেপালের লুম্বিনি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে ৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাকে উদ্ধার করতে সকল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ।
অসমর্থিত সূত্রে বলা হয় যে, পাকিস্তান অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অপহরণের জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” কে সন্দেহ করছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ হাবিব সম্পর্কে কোনো কিছু জানার কথা অস্বীকার করলেও সেখানকার বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় কুলভুষণের পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে হাবিবকে তুলে নেয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে।
কর্নেলের ছেলে সাদ হাবিব তার পিতা অপহরণে রাষ্ট্রবিরোধী (“র” এর দিকে ইঙ্গিত করে) শক্তির দুরভিসন্ধি আছে বলে দাবী করেন। “শত্রুর গোয়েন্দা সংস্থা বাবার অপহরণের সাথে জড়িত থাকতে পারে” বলে সাদ উল্লেখ করেছেন।
জিওনিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জহির ২০১৪ সালে কর্নেল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন করেছিলেন। এর পরে চাকরির সন্ধানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলে মার্ক টমসন নামে একজন ব্যক্তি একটি ওয়েবসাইটে জহিরের ব্যক্তিগত বিবরণ দেখে তাকে চাকরিতে নিয়োগ দানের জন্য সাক্ষাতকার নিতে নেপালের লুম্বিনিতে ডাকেন। তাদের মধ্যে আরও যোগাযোগ হলে থমসন তাকে নেপালে সাক্ষাত্কার নেয়ার জন্য বিমান টিকেট পাঠিয়ে দেন । লুম্বিনি ভারতীয় সীমান্ত থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে একটি নেপালি এলাকা।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, জহির হাবিব ভারতীয় পোস্টের অদূরে কোথায়ও আটকা পড়েন। তার সমস্ত রেকর্ড হারিয়ে যায় এবং যে নাম্বার থেকে তাকে ফোন করা হয় তা ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।
৮ই এপ্রিল শনিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাবেক সেনা কর্মকর্তার নিখোঁজ হওয়ার খবরের সত্যতা জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাফীস জাকারিয়া বলেন “হাবিব নেপালের রুপান্দেহি জেলা থেকে ৬ এপ্রিল হতে নিখোঁজ। তিনি আরো বলেন যে বিষয়টি নেপালী সরকারের কাছে উত্থাপিত হয়েছে এবং কাঠমান্ডু পাকিস্তান দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে যারা তার হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রাথমিকভাবে রিপোর্ট করেছিল।
ওয়েবসাইটগুলির রিপোর্টে জানানো হয় যে ওই অফিসারের পরিবার এবং বন্ধুদের অনুসন্ধানে বের হয়, যেই ব্রিটিশ নম্বর থেকে তাকে ফোন করা হয়েছিল তা কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এবং ই-মেইল ডোমেন ও এর সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ভারতে নিবন্ধিত। সোর্স থেকে বলা হচ্ছে, এ কারণেই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ অপহরণের পিছনে থাকতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ হচ্ছে।
এমই





