রাখাইন রাজ্যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া আরও ৫০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারকে দিয়েছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দেশটির রাষ্ট্রদূত লুইন উকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে এই তালিকা হস্তান্তর করেন মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেন।

পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, অনেক সময় পার হলো। আমরা তাড়াহুড়া করছি। আরও ৫০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা তাদেরকে (মিয়ানমার) দেয়া হলো। এখন পরিবারভিত্তিক তালিকা দেয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “এবারের তালিকায় মোট ৫০ হাজার ৫০৬ জন রোহিঙ্গার নাম-পরিচয় রয়েছে।”

এই নিয়ে মিয়ানমারের কাছে চার দফায় এক লাখের বেশি রোহিঙ্গার তালিকা দেয়া হলো। এর আগে তিন দফায় ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। যদিও মিয়ানমারের অনীহার কারণে তাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর গতিতে এগুচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধরা মুসলমানদের উপর নতুন করে গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ চালাতে থাকে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও প্রায় ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়ে আছে।

পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩১টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

এরপর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া চালানো হয়। কিন্তু দফায়-দফায় চেষ্টা করেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। গত বছরের শেষ সময়ে এবং চলতি বছরের শুরুতে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা দিলেও কথা রাখেনি মিয়ানমার।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দেশটির নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। মিয়ানমার সরকারের দাবি, রোহিঙ্গারা হলো বাংলাদেশি, যারা বর্তমানে অবৈধভাবে মিয়ানমারে বসবাস করছে। 

এমবি