কংগ্রেসের নিন্মকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্যদের সতর্ক করে এক মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষজ্ঞ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে গিয়ে আরেক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা থেকে যেন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি সরে না যায়।

তার দাবি, এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আল কায়দা দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের শক্তি পুনরুত্থানের চেষ্টা চালাবে; যাদের কার্যক্রম এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে দেখা গেছে।

সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌশলের ওপর কংগ্রেসনাল শুনানি চলার সময় হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্যদের কাছে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের পরিচালক ব্রুস হফম্যান এমন উদ্বেগ জানান। খবর পিটিআইয়ের।

হফম্যান বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিবিষ্টতার সুযোগ নিয়ে আল কায়দা দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের শক্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করছে। আফগানিস্তানে আল কায়দাকে নতুন করে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে সংগঠনটি তাদের ভারতীয় উপমহাদেশে শাখা গড়ে তুলেছে।

কংগ্রেস সদস্য ম্যাক থর্নবেরির এক প্রশ্নের জবাবে হফম্যান বলেন, আল কায়দা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ভারতে তাদের মতাদর্শ ছড়িয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরই মধ্যে আমরা বাংলাদেশ ও বার্মায় (মিয়ানমার) এর কার্যক্রম দেখেছি।

আইএস যখন আজকের বিশ্বের জন্য ভয়াবহ হুমকি আকারে আবির্ভূত হয়েছে, আল কায়দাও নতুন করে শক্তিশালী হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী যুদ্ধের জন্য নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে তারা।

সব মিলে দুই গ্রুপই পশ্চিম ও আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধাবস্থা জারি রেখেছে। আইন প্রণেতাদের উদ্দেশে হফম্যান বলেন, আইএসকে এখানে থাকতে হবে, অন্তত সুদূরভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে।

২০১৫ সালে প্যারিস হামলার আগে জঙ্গিগোষ্ঠীটি ইউরোপে অভিযান পরিচালনায় সক্ষম একটি বৈশ্বিক ইউনিট গড়ে তোলে। ওই জঙ্গি নেটওয়ার্কের বেশির ভাগ সদস্যই ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইএসের বিভিন্ন আঞ্চলিক ইউনিট কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বাইরে স্বাধীন ইউনিট হিসেবে কাজ করে।

হফম্যান সতর্ক করে আরও বলেন, জঙ্গিরা তাদের কার্যক্রমের সীমানা বিস্তৃত করেছে। মালি, বেনিন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

কংগ্রেস সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে ওয়েস্ট পয়েন্টের সন্ত্রাসবাদ দমন কেন্দ্রের প্রধান মাইকেল শিহান বলেন, পাকিস্তানের ফেডারেল অ্যাডমিনিস্ট্রার্ড ট্রাইবাল এরিয়া (এফএটিএ) যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে কৌশলগত হুমকির কারণ। এফএটিএ আল কায়দা গোষ্ঠীর ‘আবাসভূমি’ হিসেবে পরিচিত।

মাহমুদ