সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা বিমান হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। হামলায় বিধ্বস্ত শহরটিতে মানবিক সহায়তা কাজের সুবিধার্থে এই বিরতি কার্যকর করা হবে বলেও জানিয়েছে সামরিক বাহিনী।

তবে, শহরে আটকে পড়া সাধারণ নাগরিকদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এই তিন ঘণ্টা সময় যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।  

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা লে. জেনারেল সার্জেই রাডসকোই বুধবার সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার থেকে স্থানীয় সময় প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আলেপ্পো শহরে বিমান ও স্থল হামলাসহ সব ধরনের সামরিক আক্রমন বন্ধ থাকবে যাতে এই সময়টি শহরটিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালানো যায়।  

রাডসকোই বলেন, আলেপ্পো শহরের উত্তর প্রান্তে একটি রাস্তা নির্মান করা হবে যা ক্যাসেলো শপিং সেন্টারের মধ্য দিয়ে যাবে। এর ফলে ২৪ ঘণ্টাই শহরের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে খাদ্য, পানি, জ্বালানি, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রি নিরাপদে সরবরাহ করা যাবে।  

অবশ্য শহরটিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জাতিসংঘ আগেই প্রতি সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা যুদ্ধ বিরতির আহবান জানিয়েছিল। জাতিসংঘের সেই আহবানে সাড়া না দিলেও প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলো রাশিয়া।

তবে, জাতিসংঘের দাবি, শহরটিতে বিপর্যস্ত মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌছে দিতে এই তিন ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়।  

জাতিসংঘের শীর্ষ সহায়তা কর্মকর্তা স্টিফেন ও’ ব্রেইন বুধবার সাংবাদিকদের জানান, শহরটিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দিতে সেখানে ট্রাকে করে মালামাল নিতে হবে। এজন্য দুটো গাড়ি চলাচলের লেন (রাস্তা) থাকতে হবে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে শহরের ভেতরে ট্রাকে ত্রানসামগ্রি পৌঁছে দিয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় দরকার।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় ব্রেইন আরো বলেন, রাশিয়ার প্রস্তাব সম্পর্কে তাকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তাছাড়া এখানে আরো অনেক জটিল হিসাব-নিকাশ রয়েছে। যেমন শহরের ভেতরে ত্রান-সামগ্রি যেই লরি বা ট্রাকে করে পৌঁছে দেয়া হবে তার ড্রাইভারদের সাথেও আলোচনা করতে হবে। সাহায্য পৌঁছে দিয়ে আবার নিরাপদে ফেরত আসতে তাদের কত সময় লাগতে পারে সে ব্যাপারে ড্রাইভারদের কাছ থেকে পরিস্কারভাবে জানতে হবে।   

ব্রেইন বলেন, এখন বাস্তবতা হলো যদি তিন ঘণ্টা সময় পাওয়া যায় তখন আমাদের ভাবতে হবে এই তিন ঘণ্টায় আমরা কতটুকু অর্জন করতে পারবো। এই পরিস্থিতিতে আমাদের ঠিক করতে হবে, শহরটিতে মানবিক সহায়তা যতটুকু দরকার তিন ঘণ্টায় যেহেতু সেটা পূরণ করা সম্ভব নয়, তাই কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ করবো।

এদিকে, গত সোমবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ আলেপ্পো শহরে বিদ্রোহীদের ওপর পাল্টা হামলা চালাতে কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছেন। এর দু’দিন আগে অবশ্য বিদ্রোহীরা আলেপ্পো শহরে সরকারী বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যুহ ভেঙ্গে দেয়।

মঙ্গলবার সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আল জাজিরাকে জানায়, সরকারি বাহিনী ও মস্কোসহ তাদের সহায়তাকারীরা আক্রমনের মাত্রা বাড়ালেও উত্তরের এই শহরটির গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখলে রাখতে তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

অপরদিকে, এই পরিস্থিতির মধ্যেও গত বুধবার বিদ্রোহীদের ছোড়া রকেটে আলেপ্পোর সরকারনিয়ন্ত্রিত অংশে অন্তত ১৪জন নিহত ও আরো অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম। এর মাত্র একদিন আগেও আলেপ্পোর পার্শ্ববর্তী সরকারনিয়ন্ত্রিত এক শহরে বিদ্রোহীদোর ছোড়া রকেটে ১ জন নিহত ও ১২ জন আহত হন।  

কেবি