অবশেষে মায়ের কোলে ফিরল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ছয় বছর আগে বাংলাদেশে পাচার হওয়া শিশু সনু।
বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে দিল্লি পৌঁছে ১২ বছর বয়সের সনু। পরে তাকে তার মা-বাবার কাছে তুলে দেওয়া হয়।
এরআগে বুধবার মা মুমতাজকে সনুর ফেরার খবরটি দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
২০১০ সালে সনুকে নয়াদিল্লি থেকে পাচার করে একটি চক্র। তারা তাকে বরগুনার বেতাগী উপজেলার গেরামর্দন গ্রামের হাসি বেগমের হাতে তুলে দেয়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হাসি বেগম নিয়মিত সনুর ওপর অত্যাচার চালাতেন। এর প্রতিবাদ করেন একই গ্রামের জামাল ইবনে মুসা। তিনি সনুকে তার মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেন হাসি বেগম। এসব মামলায় দুই দফায় ১ মাস ১৯ দিন জেল খাটেন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জামাল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার চাকরিও চলে যায়।
এদিকে নির্যাতনের শিকার সনু একপর্যায়ে হাসি বেগমের বাড়ি থেকে পালায়। পরে জামাল তাকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করেন। আদালত সনুকে স্থানীয় একটি কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠান।
এরপর গত ১৪ মে জামাল পকেটের টাকা খরচ করে দিল্লিতে গিয়ে সনুর মা–বাবাকে খুঁজে বের করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে দেখা করে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। এরপর ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সনুকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত মে মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যশোরে সনুর সঙ্গে দেখা করেন। গত মঙ্গলবার হাইকমিশনের হেফাজতে নেওয়া হয় সনুকে। আর আজ তাকে দিল্লিতে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হল।
হারানো সন্তান ফিরে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা সনুর মা-বাবা। সনুকে নিয়ে বিমানবন্দর থেকে তারা যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। এ সময় সনুকে কাছে টেনে আদর করেন করেন সুষমা।
এফএফ





