আমেরিকার আটলান্টা অঙ্গরাজ্যে অসাধু উপায়ে ছাত্রদের নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার দায়ে ১১ জন সাবেক স্কুল শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক শিক্ষককে পুরো নির্দোষ ঘোষণা করে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও দৈহিক অসুস্থতার কারণে একজনকে কখনোই আদালতে দাঁড়াতে হয়নি এবং গত মাসে মারা গেছেন তিনি।
চলতি মাসের ৮ তারিখে দোষী শিক্ষকদের শাস্তি ঘোষণা করা হবে। যে আইনে এসব শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাতে দোষী ব্যক্তিকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে।
আটলান্টার এ ঘটনাকে মার্কিন শিক্ষাক্ষেত্রের নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ২০০৮ সালে স্থানীয় দৈনিক আটলান্টা জার্নাল-কন্সটিটিউশন’এ পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে নম্বর বাড়িয়ে দেয়া নিয়ে একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।
পাঁচ বছর অনুসন্ধানের পর প্রাথমিক ভাবে ৩৪টি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২১ জন নিজেদেরকে দোষী বলে ঘোষণা করে এবং এর আগে তাদেরকে আড়াইশ’ থেকে এক হাজার ঘণ্টা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক সমাজ সেবা মূলক কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়। এ ছাড়া, জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থও ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তাদের নির্দেশ দেয়া হয়। বাকিরা বিচারের মুখোমুখি হওয়ার পথ বেছে নেন।
নম্বর বাড়িয়ে দেয়া জন্য ছাত্রদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার নগদ নেয়া হয়েছে বলে অভিযুক্তদের অনেকেই স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া, কেউ কেউ চাকরি রক্ষার জন্য এমন তৎপরতায় জড়িত হতে বাধ্য হয়েছেন বলেও আদালতকে জানিয়েছেন। ৪৪ স্কুলের এ অসাধু তৎপরতায় প্রিন্সিপাল থেকে শুরু করে শিক্ষা বিভাগের নানা পর্যায়ের অন্তত ১৮০ জন কর্মী জড়িত ছিলেন। পরীক্ষার খাতায় ভুল জবাব মুছে সঠিক জবাব লেখার কাজে জড়িত এক প্রিন্সিপাল এ সময়ে হাতে গ্লাভস পড়ে নিতে বলেও তদন্ত ওঠে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে. এ অসাধু তৎপরতার বিরুদ্ধে কথা বলতে যেয়ে অনেক শিক্ষকই প্রতিশোধের শিকার হয়েছেন।
জালিয়াতির মাধ্যমে পরীক্ষায় নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার এ প্রক্রিয়া ২০০১ সাল থেকে শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ চক্রের হোতা হিসেবে সুপারিন্টেনডেন্ট বিভারলি হলকে মনে করা হয়। দৈহিক অসুস্থতার কারণে তাকে একদিনের জন্যও আদালতে হাজির হতে হয় নি। ক্যান্সারে ভুগে গতমাসে মারা গেছেন বিভারলি হল। পরীক্ষায় জালিয়াতি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিভারলি হল পাঁচ লাখ ডলার আয় করেছেন বলে তদন্তকারীরা মনে করেন। সূত্র:আইআরআইবি
জেডআই





