বিশ্বের দরিদ্রতম মহাদেশ আর বিশ্বের সমৃদ্ধতম মহাদেশের মধ্যে ভৌগোলিক ফারাক শুধু ভূমধ্যসাগর। সেটা পার হতে পারলেই কর্ম, অর্থ, স্বাচ্ছন্দ্য, মানবাধিকার। ইউরোপ মানেই যে স্বপ্ন।
দারিদ্র্য ও হতাশা থেকে পলায়নরত কৃষ্ণাঙ্গ মানুষরা সাহারা মরুভূমি পার হয়ে ভূমধ্যসাগরের উপকূলে এসে পৌঁছান৷ সেখান থেকে নড়বড়ে, মরচে-ধরা জাহাজ কিংবা নৌকায় চড়ে ইটালির লাম্পেদুসা দ্বীপে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা; নয়ত মরক্কোর উত্তর প্রান্তে তিন তিনটি বেড়া পার হয়ে স্পেনের রাজ্যাঞ্চল মেলিয়া বা সেউটা-য় ঢোকার চেষ্টা৷
ভূমধ্যসাগরের ঢেউ-এ আফ্রিকার ‘বোট-পিপল'-দের যে অবস্থা, তেমনই মরক্কোয় আফ্রিকানদের কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে ‘সত্যাগ্রহ': হাত-পা কেটে রক্ত ঝরছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হিমেল বাতাসে বাদুড়ের মতো ঝুলে থাকা – এ সবই শুধু ইউরোপের মাটিতে পা দেবার জন্য, সেখানে ‘রাজনৈতিক' আশ্রয় পাবার আশায়৷ মাঝখান থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিব্রত, বিড়ম্বিত৷
ইটালি অথবা স্পেনের যুক্তি হলো: আমরা পুরো ভারটা টানব কেন? ইইউ-র বাকি সদস্যদেশগুলির সন্দেহ: ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলি এই মনুষ্যস্রোত রুখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না৷ উত্তর আফ্রিকার উপকূলীয় দেশগুলির বিরুদ্ধেও ইউরোপের অনুরূপ অভিযোগ৷ কিন্তু দু'টি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে: আফ্রিকার প্রগতির, উন্নতির দায়িত্ব আসলে কার? ইউরোপ কি নিজেকে দুর্ভেদ্য করে তুলেই সেই দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাবে? অর্থাৎ এসে পড়ছে ইতিহাস ও নৈতিকতার প্রশ্ন৷ সেই সঙ্গে এই বাস্তব উপলব্ধি যে, আফ্রিকায় যত হতদরিদ্র, হতভাগ্য মানুষ রয়েছে, তাদের সকলকে ইউরোপে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়৷ অপরদিকে প্রাক্তন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ইউরোপ তার দায়িত্ব এড়ায়ই বা কী করে?
গত বছর হাজার খানেক আফ্রিকান মেলিয়ায় ঢুকতে সমর্থ হয়৷ এ বছরের প্রথম তিন মাসেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে৷ গত ১৮ মার্চে ৫০০ আফ্রিকান একদিনে স্প্যানিশ এনক্লেভটিতে ঢুকতে সমর্থ হয়৷
এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতি বছর গ্রীষ্মে কাজের খোঁজে হাজার হাজার আফ্রিকান নাগরিক উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে ইটালির দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছেন৷
অপরদিকে যে সব আফ্রিকানরা নৌকায় চড়ে লাম্পেদুসায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, এই বসন্তে তাদের সংখ্যা বেড়েছে তিনগুণ৷ অপরদিকে মেলিয়া আর সেউটা স্থলপথেই পৌঁছানো যায়, কাজেই এই দু'টি স্থান হলো ইউরোপগামীদের তীর্থবিশেষ: মধ্য বা পশ্চিম আফ্রিকা থেকে মরক্কো পৌঁছাতেই তাদের বছর দুয়েক লেগে গেছে৷ এবার তারা স্প্যানিশ এনক্লেভ দু'টির কাছের পাহাড়ে ক্যাম্প করে বসে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে৷ ধরা পড়ে ফেরৎ পাঠালেও কুছ পরোয়া নেই, পরে আবার ঢোকার চেষ্টা করা যাবে৷
মরক্কো আর স্পেন বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে জলপথে ইউরোপে আসাটা সমস্যাকর করে তুলেছে; ঠিক সেই অনুপাতে মেলিয়া আর সেউটা-র উপর ইউরোপ-অভিলাষীদের চাপ বাড়ছে৷ মরক্কো ও স্পেনের কর্তৃপক্ষের হিসেব অনুযায়ী প্রায় ৩০ হাজার বেআইনি অভিবাসী মরক্কোয় অবস্থান করছে, ইউরোপে পৌঁছানোর আশায়৷ অপরদিকে যারা কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে স্বপ্নের ‘ইউরোপে' পা রাখছেন, তাদের তৎক্ষণাৎ ফেরত পাঠানোর, এমনকি মারধোর করার ঘটনাও ঘটছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি যে বিষয়ে উদ্বিগ্ন৷ তবে এই নির্দয় ব্যবহারে আফ্রিকার মানুষগুলি পিছপা হবার নন – তারা স্বদেশে এর চেয়ে অনেক বেশি বিভীষণ পরিস্থিতি দেখে এসেছেন। সূত্র: ডয়চে ভেলে
[b]ঢাকা, ১১ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি) //এমএ[/b]
আন্তর্জাতিক
আফ্রিকার দারিদ্র্য থেকে ইউরোপে সমৃদ্ধির স্বপ্ন
বিশ্বের দরিদ্রতম মহাদেশ আর বিশ্বের সমৃদ্ধতম মহাদেশের মধ্যে ভৌগোলিক ফারাক শুধু ভূমধ্যসাগর। সেটা পার হতে পারলেই কর্ম, অর্থ, স্বাচ্ছন্দ্য, মানবাধিকার। ইউরোপ মানেই যে স্বপ্ন।





