ভারতে ১৯ বছরের এক কলেজছাত্রী আরতি দেবী তার সমস্ত ইচ্ছাপূরণের জন্য মা কালী তাকে জিহ্বা উৎসর্গের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। স্বপ্ন দেখার পর দিন ঠিকই তিনি মন্দিরে গিয়ে সবার সামনে দেবতার জন্য নিজের জিহ্বা কেটে উৎসর্গ করেছেন।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে ১৯ বছরের এক কলেজছাত্রী নিজের জিহ্বা কেটে দেবতা কালীকে পূজা দিয়েছেন।

আরতি দেবী নামের ওই তরুণীর দাবি, তার সমস্ত ইচ্ছাপূরণের জন্য মা কালী তাকে জিহ্বা উৎসর্গের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। স্বপ্নের পরের দিন তিনি মন্দিরে গিয়ে সেটি উৎসর্গ করেছেন।

আরতি দেবী মধ্যপ্রদেশের টিআরএস কলেজের ছাত্রী। রাজ্যের রেভা শহরের কালী মন্দিরে গিয়ে তিনি এই ঘটনা ঘটান।

আরতি জানিয়েছেন, জিহ্বার বিনিময়ে তার সমস্ত ইচ্ছা পূরণ হবে, স্বপ্নে বলেছিলেন দেবী।

এরপর তিনি আর স্থির থাকতে পারেননি। সোজা মন্দিরে যান। মন্দিরে তখন সবাই পুজোয় ব্যস্ত ছিলেন। একটা ব্লেড বের করে সকলের সামনে নিজের জিভ কেটে ফেলেন আরতি।

আরতিকে এ রকম করতে দেখেও কেউ বাধা দেননি। এমনকি রক্তাক্ত অবস্থায় মন্দিরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে না নিয়ে একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

খবরে আরো বলা হয়, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অচৈতন্য অবস্থায় মন্দিরে পড়ে ছিলেন আরতি। এরপর জ্ঞান ফিরলে মন্দির চক্কর দেয়াসহ পুজোর বাকি রীতি-নীতি সারেন। অবাক করার বিষয়, সে সময়েও তাকে স্বাভাবিক এবং হাসি মুখে দেখা গেছে।

তবে আরতির এমন সিদ্ধান্তের নিয়ে তার ভাই শচীন বলেন, ‘স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে আরতি আমাকে জানায়- সে তার জিহ্বা মা কালীকে উৎসর্গ করতে যাচ্ছে। কিন্তু, তার এই কথা আমার বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। আমি ভেবেছি, সে আমার সঙ্গে মজা করছে।’

শচীন আরো জানান, ‘অশিক্ষিতদের এই ধরনের মূর্খামি ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গল্প আমি মানুষের মুখে মুখে শুনেছি। কিন্তু, আমি কখনই চিন্তা করিনি আমার কলেজপড়ুয়া বোনটিই এমন কুসংস্কারাচ্ছন্নে বিশ্বাস করে এই কাণ্ড করতে যাচ্ছে।’

মন্দিরের পুরোহিত দেবী প্রসাদ শর্মা জানান, ‘যখন মেয়েটি দেবতার জন্য তার জিহ্বা কাটেন, আমি সেখানে উপিস্থত। দেবতা সর্বশক্তিমান এবং তিনিই সর্বদা তার পূজারিদের রক্ষা করবেন।’

খবর পেয়ে একদল চিকিৎসক নিয়ে পুলিশ মন্দিরে ছুটে যান। পরে আরতিকে চিকিৎসা দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়।

এফএফ