শ্রীলঙ্কায় গির্জা এবং হোটেলে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় অবশেষে চাকরি হারালেন দেশটির পুলিশপ্রধান পুজিথ জয়াসুন্দরার। বোমা হামলার দিনই তিনি জানিয়েছিলেন পুলিশের কাছে আগেই ওই ব্যাপারে তথ্য ছিল। একই সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোকেও পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ (২৪ এপ্রিল) বুধবার ওই দুজনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন দেশটির প্রেসিডন্ট মৈথ্রিপালা সিরিসেনা।
গতকাল (২৩ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মৈথ্রিপালা সিরিসেনা জানিয়েছিলেন, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় প্রতিরক্ষা বিভাগে রদবদল আসবে।
শ্রীলঙ্কার টাইমস অনলাইন জানিয়েছে, দয়া রত্নায়েকে নামে সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে নিয়োগ দেবেন মৈথ্রিপালা সিরিসেনা।

গত ২১ এপ্রিল (রোববার) শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশেপাশে গির্জা এবং হোটেলে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জন হয়েছে। ওই হামলায় আহত হন অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষ। সেদিন সকালে শ্রীলঙ্কার ৩টি গির্জা, ৩টি বিলাসবহুল হোটেল ও ২টি স্থাপনায় সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩৮ জন বিদেশি নাগরিক।

ঘটনার দিনই পুলিশ প্রধান পুজিথ জয়াসুন্দরা জানিয়েছিলেন, পুলিশের কাছে ১০ দিন আগেই তথ্য ছিল দেশটিতে বোমা হামলা হতে পারে।
শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রুয়ান জয়াবর্ধনে বলেন, “নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের হামলার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা চালানো হয়।”
পুলিশের প্রধান ও প্রতিরক্ষা সচিবের পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে কোনো কারণ জানানো হয়নি। তবে জানা গেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের ব্যর্থতার কারণেই ওই দুজনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
![]()
আজ (বুধবার) শ্রীলঙ্কা পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকেরা বলেছেন, এনিয়ে মোট ৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি ওই তথ্য দেয়।
গত ২১ এপ্রিল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় গির্জা ও হোটেলে সব মিলিয়ে আটটি বিস্ফোরণ ঘটে। ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা গির্জায় থাকা অবস্থায় বিস্ফোরণগুলো ঘটে।
ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তারা এই ঘটনার মূল হোতাসহ ৭ জনের ছবিও প্রকাশ করেছে।
এমবি





