মুসলমানদের সম্পত্তি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ডাক দেয়ায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে গুজরাট পুলিশ। সেইসঙ্গে তোগাড়িয়ার মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্যের সিডি চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তোগাড়িয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, শনিবার ভাবনগরের মেঘানি সার্কেলে এক মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করতে বেশ কয়েকজন সমর্থকদের নির্দেশ দেন তিনি।
গুজরাটের ভাবনগরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার পি কে সোলাঙ্কি জানান, প্রবীণ তোগাড়িয়ার ভাষণের রেকর্ডিং শুনে এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কমিশন।
সম্প্রতি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া রাজকোটে একটি জনসভায় বলেছেন, হিন্দু প্রধান এলাকা ছেড়ে মুসলমানদের চলে যেতে হবে। এমনকি, হিন্দু এলাকায় মুসলিমদের জমি-বাড়ি কেনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির কথাও বলেছেন তিনি।
রাজকোটের মেঘানি সার্কেলে এক মুসলিম ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের সদস্যদের উপস্থিতিতে এক সভায় তোগাড়িয়া ওই পরিবারকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। এর মধ্যে যদি তারা বাড়ি খালি না করেন তবে, জোর করে তাদের উচ্ছেদ করে সেখানে বজরং দলের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।  দরকার হলে অস্ত্র নিয়ে চড়াও হওয়ার কথা শোনা গেছে তার গলায়। তোগাড়িয়ার মতে, “দু'ভাবে এই ধরনের লেনদেন বন্ধ করা যায়। এক, রাজ্য সরকারকে উপদ্রুত সংক্রান্ত আইন বলবৎ করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পত্তি কেনা-বেচা করানো। অথবা, জোর করে বাড়ির দখল নেয়া। তার পর বছরের পর বছর ধরে চলুক মামলা। এর মধ্যে কোনো অন্যায় নেই। রাজীব গান্ধীর খুনীদেরও ফাঁসি হয়নি। ফলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি অতীতেও এ ধরনের কাজ করেছি, যেখানে মুসলমানরা তাঁদের সম্পত্তি ও টাকা দুইই হারিয়েছে। নির্বাচনের আগেই কংগ্রেস বা বিজেপি প্রত্যেক দলের উপর চাপ তৈরি করার আদর্শ সময়। হিন্দুদের সুরক্ষার জন্য কাজ করতে হবে।”
তোগাড়িয়ার এ ধরনের সাম্প্রদায়িক বক্তৃতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। এনডিএ’র শরিক শিরোমণি অকালি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতীয় সমাজে এ ধরণের ব্যক্তির জায়গা নেই।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল বলেছেন, তোগাড়িয়া বরাবরই বিষ ছড়াতে ওস্তাদ। তিনি তোগাড়িয়াকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলেও মন্তব্য করেন। সূত্র: জিনিউজ, আইআরআইবি।
[b]ঢাকা, ২২ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// টিআই
[/b]