মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব অ্যাস্টোন কার্টার স্বীকার করেছেন, ইয়েমেনে গোলযোগের মধ্যে বিভিন্ন এলাকা দখল করেছে আল কায়েদা। তবে তিনি অঙ্গীকার করেছেন, ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন।

কার্টার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার জন্য এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে জাপানে থাকা কার্টার বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ইয়েমেনে কিছু ক্ষেত্রে আল কায়েদা সাফল্য পেয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।’

গত কয়েক মাস ধরে ইয়েমেনে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। গত সেপ্টেম্বরে বিদ্রোহী শিয়া মুসলিম গোষ্ঠি হুতি’র যোদ্ধারা রাজধানী দখল করে নেয়। এক মাস আগে তারা প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ দখল করে প্রেসিডেন্ট আবদ্রাবো মনসুর হাদি ও তার সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে।

এরপর হাদি গৃহবন্দীত্ব থেকে দক্ষিণাঞ্চলের এডেন নগরীতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। গত মাসে হুতি ও বিদ্রোহী সেনা ইউনিটের সদস্যরা এডেন নগরীর দিকে অগ্রসর হলে হাদি সৌদী আরব চলে যান।

জাতিসংঘের মতে, ইয়েমেনের বৈধ সরকারের প্রধান হলেন হাদি। আর তার ‘নির্বাচিত বৈধ সরকারকে রক্ষায়’ হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গত ২৬ মার্চ বিমান হামলা শুরু করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলোর জোট বাহিনী।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে আসছে ইরান।

পর্যবেক্ষকরা জানান, আল কায়েদা ও অন্যান্য সংগঠন ইয়েমেনে অস্থিতিশীলতার চেষ্টা করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিইএইচও) বলেছে, দেশটিতে গত ১৯ মার্চ থেকে কমপক্ষে ৫৪০ জন নিহত হয়েছে।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেন নাকাতানির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কার্টার বলেন, ইয়েমেন ভিত্তিক আল-কায়েদা ইন দ্য এরাবিয়ান পেনিনসুলা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের জন্য হুমকি। তাই যুক্তরাষ্ট্র আল কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই একটি বৈধ সরকার সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অনেক সহজ হয়।’

তিনি বলেন, ‘ইয়েমেনে এখন সে ধরনের পরিস্থিতি নেই। তার অর্থ এই নয় যে, আমাদের সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবো না। আমরা ভিন্নভাবে তা অব্যাহত রাখবো।’

কার্টার আশা প্রকাশ করেন, তবে শুধুমাত্র এই কারনে নয়, ইয়েমেনের মানুষের দুর্দশা লাগবে সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

জেডআই