অসাধারণ ক্ষমতার অধিকারী কমিক চরিত্র ‘ওয়ান্ডার ওম্যানকে’ জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত করা হয়েছে। ‘নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন’ কার্যক্রমে কাল্পনিক এই সুপার হিরোইনকে দূত মনোনীত করা হয়। গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘ নারী অধিকার রক্ষার সচেতনতামূলক কর্মসূচির জন্য ওয়ান্ডার ওম্যানের নাম ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে নারীবাদী সংগঠনগুলো বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
জাতিসংঘের কয়েকজন কর্মীও এ ঘোষণার বিরোধিতা করছে। তাঁরা জাতিসংঘ মহাসচিবকে এ ঘোষণা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা ইতিমধ্যে এ নিয়োগের বিরুদ্ধে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। এতে ওয়ান্ডার ওম্যান চরিত্রের পোশাক নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। ওয়েবসাইটে অনেকে এমন লিখেছেন যে ‘আমাদের সঙ্গে খুব বাজে ধরনের কৌতুক করা হয়েছে।’
গতকাল জাতিসংঘের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন টেলিভিশনে ওয়ান্ডার ওম্যান চরিত্রে একসময়ে অভিনয় করা লিন্ডা কার্টার। তাঁর বয়স এখন ৬৫ বছর। ওয়ান্ডার ওম্যান চরিত্রের কপিরাইট সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ডিসি এন্টারটেইনমেন্টের প্রেসিডেন্ট ডেইন নেলসনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি ছিলেন না।
বান কি মুনের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল (যোগাযোগ) ক্রিস্টিনা গালেচ অনুষ্ঠানে ওয়ান্ডার ওমেনকে ‘ন্যায়বিচার, শান্তি ও সমতার প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অনুষ্ঠানকক্ষের পেছনের দিকে ওই সময় কয়েক ডজন নারী-পুরুষ বিক্ষোভকারী মঞ্চের দিকে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কয়েকজন হাত মুষ্টিবদ্ধ করে এতে সমর্থন জানান।
এদিকে ওয়ান্ডার ওম্যান চরিত্রকে শুভেচ্ছাদূত মনোনয়নের বিরোধিতা প্রসঙ্গে গালেচ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। এর আগে ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমা ওয়াটসন, লাইবেরিয়ার নোবেলজয়ী লেমাহ বোয়ি ও বেলজিয়ামের রানি মেচিলদের মতো বাস্তবের নারীরাও শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন। ওয়ান্ডার ওম্যান কমিক চরিত্রটি বইয়ে আবির্ভূত হওয়ার ৭৫ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে জাতিসংঘ নারীর ক্ষমতায়নের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে চরিত্রটিকে নির্বাচন করে।
বিক্ষোভকারীদের একজন সাজিয়া রাফি এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন কার্যক্রমের প্রতিনিধি হিসেবে একটি কার্টুনকে নিযুক্ত করা ‘হাস্যকর’। যেখানে বাস্তব চরিত্রের অনেক নারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্য থেকে যে কাউকে মনোনীত করা যেত।
এদিকে জাতিসংঘের ৩৫০ কর্মী ওয়ান্ডার ওম্যানকে শুভেচ্ছাদূত করার ঘোষণার বিরুদ্ধে একটি পিটিশন স্বাক্ষর করেছেন এবং এ ঘোষণা প্রত্যাহারে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
সিএনএন
জেড





