বিশ্বজুড়ে ইসলামের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত চলছে এবং এর মূল হোতা ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল ও তার গুরু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমন মন্তব্য করেছেন।

আজ (শুক্রবার) বিকেলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আল-কুদস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

আল-কুদস কমিটি বাংলাদেশ- এর উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল আলম ব্যাপারী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল আউয়াল ঠাকুর।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদে ইসলামী স্টেটের নাম করে আফগানিস্তানকে ধ্বংস করা হয়েছে, পাকিস্তান ধ্বংসের পথে। বিভাজন সৃষ্টির মাধ্যমে ইরাক, ইরান ও তুরস্কসহ সব মুসলিম রাষ্ট্রে আগ্রাসন চালানো হচ্ছে। আর এর মূল হোতা ইহুদিবাদ ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা।

তিনি বলেন, এদের কৌশল হলো এরা প্রথমে ভালো মানুষের রুপ ধরে কোন দেশে ঢুকে সে দেশের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি করবে এবং লুটপাট চালাবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে একই কুটকৌশলে তারা প্রবেশ করে সেখানকার তেল-সম্পদ লুটপাট করছে।

তিনি সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও ইসরাইলের একচোখা নীতির সমালোচনা করে বলেন, তারা ইরানকে বলে পারমানবিক অস্ত্র রাখা যাবে না, নাজায়েজ। অথচ একই অস্ত্র  রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্সের মতো দেশের কাছে থাকলে তা জায়েজ। তাহলে এই অস্ত্র ইরানের কাছে থাকলে অসুবিধা কি?

সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আজ মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, আমেরিকা আজ সৌদি আরবের কাছে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছে মুসলিমদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করার জন্য।

আমেরিকা দুটো এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে। একটি হলো অস্ত্র বিক্রি করে কোটি কোটি ডলার আয় করা এবং অপরটি হলো এই অস্ত্র এক মুসলিমকে দিয়ে আরেক মুসলিমের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে মুসলিম শক্তিকে ধ্বংস করা।

মন্ত্রী বলেন, আমেরিকা-ইসরাইল বিশ্বসভ্যতা মানে না, জাতিসংঘের আইন মানে না। কেবল শক্তিবলে তারা সবাইকে নিয়ন্ত্রন করতে চায়। বিশেষ করে মুসলিম শক্তিকে ধ্বংসে তারা বদ্ধ পরিকর।

আ.ক.ম মোজাম্মেল আরো বলেন, এখন সময় এসেছে মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। সুকৌশলে মুসলমানদের ধ্বংসে যে কুটকৌশলে ইহুদি-মার্কিন গংরা এগিয়ে চলছে তা বুঝতে হবে মুসলিম সম্প্রদায়কে।

তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে জন্মের পর থেকেই ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন ও বর্বরতা চালাচ্ছে কিন্তু মিডিয়ার তার সিকিভাগও আসছে না।

ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী বলেন, ইরান শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ কাজে পারমানবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায়। বিদ্যুত তৈরি ও কৃষিকাজসহ নানা কাজে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়।

তিনি বলেন, ইরান কখনোই পারমানবিক বোমার পক্ষে নয়। এ ধরনের একটি মানববিধ্বংসী অস্ত্র বানানোকে ইরান কখনোই জায়েজ মনে করে না।

ফিলিস্তিনে দশকের পর দশক ধরে ইসরাইলের চালানো অমানবিক আগ্রাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ প্রতিটি ঈমানদার মুসলিমের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন তারা যেন ঘর থেকে বেরিয়ে আসে এবং মজলুমের পক্ষে লড়াই করে।

ইরানি রাষ্ট্রদূত ফিলিস্তিনে নির্যাতিত মুসলিমদের পক্ষে দাঁড়ানোকে ঈমানী দায়িত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, অত্যন্ত দু:খের বিষয় যে কিছু কিছু মুসলিম দেশের শাসকরা ক্ষমতার লোভে ইসরাইলকে সমর্থন করছেন।

তিনি বলেন, ইসরাইল অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে পৃথিবীজুড়ে প্রতিটি মুসলিমকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

সব মুসলিম দেশকে এক হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ও নিজেদের উন্নতি-অগ্রগতির জন্য এই ঐক্যের কোন বিকল্প নেই।

সেমিনারে প্রফেসর নুরুল আলম ব্যাপারী বলেন, ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই হয়েছে মুসলমানদের দমন করার জন্য। মুহাম্মদ শওকাত হোসেন বলেন, যায়নবাদী ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল তার নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করার লক্ষে মুসলিম বিশ্বে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে নানা ধরনের ফেতনা ফ্যাসাদ, দ্বন্দ সৃষ্টির ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে। প্রবন্ধকার আবদুল আউয়াল ঠাকুর বলেন, ইসলামি আদর্শ ও বস্তুবাদীদের বাইরে আরো একটি গ্রুপ রয়েছে যারা কখনো ইসলামের কথা বলে আবার কখনো সুবিধাবাদের আশ্রয় গ্রহণ করে। এই সুবিধাবাদীদের ফাঁক-ফোকর দিয়েই দুনিয়াব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ ও ইহুদিবাদের ক্রীড়নকেরা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ও যায়নবাদী ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং মুসলিম বিশ্বকে এক হওয়ার আহবান নিয়ে ১৯৭৯ সাল থেকে আল-কুদস দিবস পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার এই দিবস পালন করা হয়।

কেবি