আইএসআইএলের হাতে জর্দানের একজন পাইলটের নৃশংসভাবে নিহত হওয়ার ভিডিওটি পাশ্চাত্যে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন একজন মার্কিন শিক্ষাবিদ। তিনি বলেছেন, খাঁচার মধ্যে জীবন্ত পুড়িয়ে মানুষ হত্যার উচ্চ মানসম্পন্ন এ ধরনের ভিডিও এর আগে আমরা শুধু ওয়েস্টার্ন ফিল্মেই দেখেছি।

মার্কিন শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার অধ্যাপক জেমস হেনরি ফেটযার বুধবার ইরানের স্যাটেলাইট নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “পাইলটের পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশের পর মুহূর্তেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে জর্দানের বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহর সাক্ষাতের বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে দেখার দাবি রাখে।”

তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল ২৬ বছর বয়সি পাইলট মোয়ায আল-কাসাসবে’কে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করার ভিডিও প্রকাশ করার পর মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে রাজা আব্দুল্লাহর সঙ্গে তড়িঘড়ি বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ওবামা।

ফেটযার এ সম্পর্কে বলেন, পাইলটকে হত্যা করার হৃদয়বিদারক ভিডিওটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মিনিট এবং ওয়েস্টার্ন মিডিয়া হাউজগুলো যে ধরনের ফিল্ম বা ভিডিও তৈরি করে তার সঙ্গে তুলনা করা যায়। ভিডিওটি তৈরিতে অনেকগুলো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়েছে এবং বন্দুক হাতে আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের সেভাবেই দেখানো হয়েছে ওয়েস্টার্ন ফিল্মে মার্কিন বাহিনীকে যেভাবে দেখানো হয়। অভিজ্ঞ পরিচালকের হাতে নির্মিত ভিডিওটি তৈরিতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আইএসআইএলের সন্ত্রাসীরা ২০১২ সালে জর্দানের মাটিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র হাতে প্রশিক্ষণ নেয়। সাম্রাজ্যবাদ ও ইহুদিবাদবিরোধী সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে এসব সন্ত্রাসীকে জর্দান থেকে সিরিয়ায় ঢুকিয়ে দেয় আমেরিকা। বর্তমানে সিরিয়া ও ইরাকের একাংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে মানবতা বিরোধী অপরাধ চালাচ্ছে এ তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।

অধ্যাপক ফেটযার বলেন, এখনো মার্কিন জেনারেলদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে আইএসআইএল এবং তাদের জন্য মার্কিন সি-১৩০ বিমানে করে খাদ্য, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পৌঁছে দিচ্ছে আমেরিকা। সূত্র:আইআরআইবি

জেডআই