বুরকিনি (মুসলিম নারীদের সাঁতারের জন্য বিশেষ পোশাক) পরে সুইমিং পুলে গোসল করার কারণে এক নারীকে জরিমানা করা হয়েছে ফ্রান্সে।
কর্তৃপক্ষ বলেছে, তিনি বুরকিনি পরে সুইমিং পুলে নেমে এর পানি নষ্ট করেছেন। এ জন্য ওই সুইমিং পুলের পানি পুরোপুরি ফেলে দিয়ে তা পরিষ্কার করতে হবে। এর পর তাতে আবার পানি দিতে হবে। এর জন্য সময় লাগবে দু’দিন।
এ জন্য ওই নারীকে ৪৯০ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে ফাদিলা নামের ওই নারী দক্ষিণ ফ্রান্সের মারসেইলির কাছে তার বাসার সঙ্গে একটি প্রাইভেট আবাসনে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলেন।
তিনি পুলে নামার সঙ্গে সঙ্গে এর স্টাফরা পুলে থাকা অন্য সবাইকে উঠে আসতে বলে। পরে এর মালিক ফাদিলার স্বামীকে ফোন করেন। অন্যরা সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা অবস্থায় যেন তার স্ত্রী এতে না নামেন এমন অনুরোধ জানানো হয় তাকে।
এ সময় তাদেরকে ৪৯০ ইউরো জরিমানা দিতে বলা হয়। এ ছাড়া ওই ভবনের সংগঠন থেকে একটি রিপোর্ট দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, ২১ শে জুলাই বোরকা পরা এক নারী সুইমিং পুলে নেমেছিলেন। তাতে উঠে আসতে বললেও তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানান।
মুসলিমদের সংগঠন ইউনাইটেড এগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া ইন ফ্রান্সকে (সিসিআইএফ) ফাদিলা বলেছেন, আমি সুইমিং পুলে নামার আগে আমাকে কেউ বাধা দেয় নি। নিয়ম কানুন সম্পর্কে কেউ কিছু বলেও নি।
আমাকে জরিমানা করায় আমি হতাশ। বিস্মিত। একটি বুরকিনির কারণে এতটা হতে পারে! সিসিআইএফ বলেছে, ফাদিলার বুরকিনি অস্বাস্থ্যকর ছিল না। তিনি যে পোশাক পরেছিলেন সেটা সাঁতারের জন্য বানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত গ্রীষ্মে দক্ষিণ ফ্রান্সের কান শহরে নারীদের বুরকিনি পরার ওপর জরিমানা ধরার বিধান জারি হয়। কোথাও কোথাও তা নিষিদ্ধ করা হয়।
পরে দেশটির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত রায় দেয়। তাতে বলা হয়, ফ্রান্সের সমুদ্র সৈকতে জোর করে বুরকিনি নিষিদ্ধ অবৈধ ও মৌলিক স্বাধীনতার লঙ্ঘন। ওদিকে দু’বৃটিশ নারী অভিযোগ করেছেন তাদেরকে পর্তুগালে একটি প্রাইভেট সুইমিং পুলে অবমাননা করা হয়েছে। এর কারণ, তারা দু’জনেই বুরকিনি পরেছিলেন।
জেড





