আজ বৃহস্পতিবার মিশর গণহত্যার এক বছর পূর্ণ হলো। গত বছর অর্থ্যাৎ ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট মিশরে সংগঠিত হয় স্মরণকালের ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। দেশটিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকদের ওপর সামরিক অভ্যুত্থানকারীদের নৃশংস হামলায় অন্তত এক হাজার জন নিহত হন। আহত হন কয়েক হাজার।
গণহত্যার দিনটিকে স্মরণ করতে বৃহস্পতিবার মুরসি সমর্থকেরা রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন জায়গায় সমবেত হন। কিন্তু এদিনও সেনাবাহিনী তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারের এ হামলায় নিহত হন অন্তত ২ জন মুরসি সমর্থক।
মিশরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। ক্ষমতায় আসে সেনা প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসেন মুরসি সমর্থকসহ দেশের সাধারণ মানুষ।
ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে মুরসি সমর্থকেরা রাজধানী কায়রোর নিকটবর্তী রাবা আল আদাবিয়া ও নাহদা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। কিন্তু ১৪ আগস্ট রাতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ অবস্থান কর্মসূচিতে নৃশংস হামলা চালায়। এতে নিহত হন অন্তত এক হাজার মুরসি সমর্থক। আহত হন কয়েক হাজার। আটক করা হয় অনেককে।
এ গণহত্যা নিয়ে গত মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এইচআরডব্লিউ এই গণহত্যাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে আখ্যায়িত করেছে। এজন্য আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। মুরসি সমর্থকদের অব্স্থান কর্মসূচিতে ছয় ধরনের ঘটনার তদন্ত করতে জাতিসংঘের সহায়তা কামনা করেছে এইচআরডব্লিউ।
এদিকে, এইচআরডব্লিউ-এর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক সারাহ লিয়ে উয়িটসনকে সম্প্রতি মিশরে ঢুকতে দেয়নি দেশটির সেনা সমর্থিত সরকার। মিশরের সিসি সরকার এইচআরডব্লিউ-এর রিপোর্টকে 'পক্ষপাতমূলক' ও 'নেতিবাচকভাবে তৈরি' বলে অভিযোগ করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
ঢাকা, ১৪ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





