কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে পঞ্জাব থেকে মিছিল করে ‘দিল্লি চলো’র ডাক দিয়েছিলেন কৃষকরা। বৃহস্পতিবার সারাদিন ধরেই হরিয়ানার পুলিশ বিভিন্ন ভাবে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে বিক্ষোভরত কৃষকদের। সেই চেষ্টা আরও মরিয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার রাত থেকে। প্রবল ঠান্ডার মধ্যেই হরিয়ানার সোনপতে রাত ১১টার দিকে কৃষকদের উপর জলকামান চালায় পুলিশ। উদ্দেশ্য একটাই, কৃষকদের দিল্লি ঢুকতে বাধা দেওয়া।

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকেই দিল্লির সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় দেখা যাচ্ছে বৃহস্পতিবারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি। কৃষকরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের আটকাতে নিজেদের শক্তি প্রয়োগ করছে পুলিশ।

সকাল থেকে শক্তি প্রয়োগ করার পর অবশেষে শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে সংঘর্ষের পথ থেকে সরে এল পুলিশ। বড় জয় পেলেন কৃষি বিল বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী কৃষকরা। তাঁদের দিল্লিতে ঢুকতে অনুমতি দিল পুলিশ। নয়াদিল্লির বুরারি এলাকায় নিরঙ্করী সমাগম মাঠে প্রতিবাদ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কৃষকদের।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই সোনপতে পৌঁছে গিয়েছিল ২০০-র বেশি কৃষকের একটি দল। রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়েই তাঁরা স্লোগান দিচ্ছিল। পুলিশও ব্যারিকেড বানিয়ে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে তৈরি ছিল। রাত ৯টার দিকে সেখানে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়। কৃষকরা পুলিশকে ব্যারিকেড সরিয়ে নিতে অনুরোধ করে। পিছিয়ে যেতে রাজি হয়নি কৃষকরাও। ইতিমধ্যেই রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কনকনানি ঠান্ডা। তার মধ্যেই প্রতিবাদরত কৃষকদের ওই দলের উপর জলকামান ছোড়ে হরিয়ানা পুলিশ।

যদিও বৃহস্পতিবার সারা দিন সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেও কৃষকদের আটকাতে পুরোপুরি সফল হয়নি হরিয়ানার বিজেপি সরকার। সংযুক্ত কিসান মোর্চা এবং অল ইন্ডিয়া কিসান সংঘর্ষ কোঅর্ডিনেশন কমিটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দিল্লি ঢোকার জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার কৃষক পৌঁছে গিয়েছে দিল্লি-হরিয়ানা সীমানার বিভিন্ন এলাকায়। শুক্রবার দিল্লি ঢোকার জন্য পুরোমাত্রায় তৈরি তাঁরাও।

পাশাপাশি বিক্ষোভরত কৃষকদের দিল্লিতে ঢোকা আটকাতে তৈরি রয়েছে প্রশাসনও। বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের দিল্লি ঢোকার আর্জি করোনা অতিমারির দোহাই দিয়ে ইতিমধ্যেই খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লির পুলিশ কমিশনার এস এন শ্রীবাস্তব বলেছেন, “কোভিড-১৯ নির্দেশিকার জন্য রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়। আমরা অনুরোধ খারিজ করেছি। দিল্লি সীমান্তে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জোর করে ঢোকার চেষ্টা বাধা দেওয়া হবে।’’

এরই অঙ্গ হিসাবে ২৪ নম্বর জাতীয় সড়ক, চিল্লা সীমান্ত, তিকরি সীমান্ত, বাহাদুরগড় সীমান্ত, ফরিদাবাদ সীমান্ত, কালিন্দী সীমান্ত, সিংঘু সীমান্তে ব্যারিকেড গড়ে দিল্লি পুলিশ।

পুলিশের বাধা উড়িয়ে বিক্ষোভরত কৃষকরা কী ভাবে দিল্লি ঢোকেন আর বিক্ষোভে অনড় কৃষকদের রুখতে পুলিশ কী করে তার দিকে আজ নজর থাকবে সারা দেশের। তথ্য সূত্র- আনন্দবাজার

এমবি