বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে বর্তমানে ইসলামপন্থীদের উত্থান চরম আকার ধারণ করছে। আর এর তীব্রতা সবচেয়ে বেশি মুসলিম দেশগুলোয়। এ নিয়ে চরম শঙ্কায় মুসলিম দেশগুলোর শাসকেরা। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সম্প্রতি এ গবেষণা চালিয়েছে।

আল-কায়েদা, হিজবুল্লাহ, বোকো হারাম, তালেবানের মতো অসংখ্য ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর ব্যাপারে মুসলিম দেশগুলোর বেশির ভাগ মানুষ মিশ্র  মনোভাব পোষণ করেন। এদের তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্যসহ দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোতে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। খোদ বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

পিউ রিসার্চের জরিপে দেখা গেছে, ইসলামপন্থীদের উত্থান নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন লেবাননের মানুষ। দেশটির ৯২ শতাংশ মানুষ সব সময়ই শঙ্কিত থাকে। এ ছাড়া তিউনিসিয়ায় ৮০, মিসরে ৭৫, নাইজেরিয়ায় ৭২, বাংলাদেশে ৬৯, পাকিস্তানে ৬৬, ফিলিস্তিনে ৬৫, মালয়েশিয়ায় ৬৩, জর্ডানে ৬২, তুরস্কে ৫০, সেনেগালে ৪৬ ও ইন্দোনেশিয়ায় ৩৯ শতাংশ মানুষ এ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটায়। এছাড়া ইহুদীবাদী ইসরায়েলের ৮৪ শতাংশ মানুষও এ নিয়ে ভীত।

১৪টি দেশের ১৪ হাজার ২৪৪ জন মানুষের ওপর গত ১০ এপ্রিল থেকে ২৫ মে পর্যন্ত এই জরিপ চালায় পিউ রিসার্চ সেন্টার। আল-কায়েদা, হামাস, হিজবুল্লাহ, বোকো হারাম ও তালেবানের মতো চরমপন্থী সংগঠনগুলোকে মানুষ কি চোখে দেখে বা তাদের মূল্যায়নও বা কি? তা বের করে আনার উদ্দেশ্যেই করা হয় এই জরিপ।

প্রতিষ্ঠানটি দেখিয়েছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের মুসলমানরা এখনো মনে করেন, ইসলাম রক্ষায় সহিংসতা চালানো যেতে পারে। এই চরমপন্থাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৪৭ শতাংশ মানুষ সমর্থন করে । ৪৬ শতাংশের সমর্থন নিয়ে তারপরেই রয়েছে ফিলিস্তিন। বাংলাদেশে মোট এক হাজার লোকের ওপর জরিপ চালানো হয়। তার মধ্যে ৬৬ শতাংশ আল-কায়েদা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেছে। আর ২৩ শতাংশ সমর্থন দিয়েছে চরমপন্থী এ সংগঠনটির প্রতি।

চরমপন্থার এই অস্বাভাবিক উত্থানে অমুসলিম দেশের চেয়ে বেশি অশান্তিতে মুসলিম দেশগুলো। প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশেই সরকার-বিদ্রোহী সংঘর্ষ লেগেই আছে। এতে অনেক সাধারণ মানুষও হতাহত হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রতিটি নাগরিক। ধর্মীয় সচেতনতা ও সঠিক জ্ঞান, চরমপন্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধে সকলের সহযোগিতায় দমন ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে ইসলামের উত্থানকে।

ঢাকা, ০৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ