রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অঙ্গীভূত করার একটি খসড়া বিলে স্বাক্ষর করার পর বলেছেন, ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অংশে পরিণত করাটাই ছিল ভুল।
পুতিন এরপর ক্রেমলিনে রুশ পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ এবং ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের এক বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এতে তিনি ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার পদক্ষেপের সমর্থনে বলেন, ১৯৫৪ সালে এবং স্নায়ুযুদ্ধের শেষে দু দফায় ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অংশে পরিণত করাটা ছিল একটি ভুল, কারণ এই অঞ্চলটি রাশিয়ার জন্য ঐতিহাসিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনকে ভাঙতে চায় না, এবং যারা বলছে যে ক্রিমিয়ার পর অন্যান্য অঞ্চলের পালা আসবে - তাদের কথায় কান দেবেন না।
পুতিন আরো বলেন, ক্রিমিয়ায় যে গণভোট হয়েছে তা আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। রোববার এক বিতর্কিত গণভোটে ক্রিমিয়ার বহু ভোটার ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাশিয়ার সাথে যোগ দেবার পক্ষে ভোট দেন।
এরপর ৪৮ ঘণ্টা পার না হতেই ক্রিমিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া, এবং পুতিন আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্টকে জানান যে ক্রিমিয়া রাশিয়ার অংশ হবার অনুরোধ জানিয়েছে। তিনি এরপর এ সংক্রান্ত খসড়া বিলে অনুমোদন দেন।
বিবিসির সংবাদদাতা জানিয়েছেন, মনে হচ্ছে যে পুতিন - ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশে পরিণত করার কাজটিকে দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করতে চান।
যদিও এ ব্যাপারে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ক্রিমিয়ার গণভোটকে অবৈধ ঘোষণা করে ইইউ এবং যুক্তরাষ্ট্র। তারা রাশিয়া ও ইউক্রেনের মোট ২১ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী, সংসদের কয়েকজন সদস্য, কৃষ্ণ সাগরে অবস্থিত রাশিয়ার নৌবহরের কমান্ডার এবং ক্রিমিয়াতে নিয়োজিত রাশিয়ার দক্ষিণ ও পশ্চিম সেনা ইউনিটের কর্মকর্তাবৃন্দ।
নিষেধাজ্ঞা আরোপ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদকে যদি উস্কে দেয়া হয় তাহলে রাশিয়ার ওপরে ভবিষ্যতে আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাশটন বলেছেন, যে সব ব্যক্তি ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও অখন্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাদের সম্পত্তিই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং তাদের ভ্রমণের উপরেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেফরি পেয়াত বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রিমিয়াকে স্বাধীন দেশের মর্যাদা দিলেও, রাশিয়ার এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টাতে পারেনি।
পেয়াত বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ক্রিমিয়া ইউক্রেনের অংশ এবং আরো মনে করে, ক্রিমিয়াতে যে গণভোট হয়েছে তা অবৈধ। তাই, ক্রিমিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার মূল্যায়ন পাল্টাবে না।
অন্যদিকে, রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, বাস্তবতাকে মানতে চায় না বলেই গোঁয়ার্তুমি করেই রাশিয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: বিবিসি বাংলা
[b]ঢাকা, ১৮ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ[/b]