ছত্রিশ দফা কাঠমান্ডু ঘোষণার মধ্য দিয়ে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর সিটি হলের রাষ্ট্রীয় সভাকক্ষে সম্পন্ন হলো ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সমাপণী অনুষ্ঠান।
নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় আধাঘন্টা পরে শুরু হয় দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ ফোরামের দুইদিনের সম্মেলনের সমাপণী পর্ব।
স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার পরিবর্তে সমাপণী সম্মেলন শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৪টায় নেপালের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে।
এরপরই নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপনী সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং সার্ক পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সভায় (কাউন্সিল অব মিনিস্টারস) গৃহিত সিদ্ধান্তসমূহ অনুমোদন হয়েছে মর্মে ঘোষণা দেন।
শুরুতেই সার্কভূক্ত আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সহযোগিতা ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি (Agreement on Energy Cooperation Framework) স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত কিছুটা হলেও নাটকীয়তার অবসান হলো। পাশাপাশি তিনটি কাঙ্খিত চুক্তির অন্তত একটি স্বাক্ষরিত হলো।
এর ফলে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বাজার গড়ে তোলার প্রেক্ষাপট যেমন তৈরি হলো, তেমনি এই চু্ক্তিই হয়ে রইলো এবারের সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের প্রধান প্রাপ্তি।
তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চুক্তি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখলেও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য সার্ক আঞ্চলিক রেল সহযোগিতা এবং সার্ক পণ্য ও যাত্রীবাহী মোটরযান চলাচল বিষয়ক অবশিষ্ট দুটি চুক্তি স্বাক্ষর আর সম্ভব হলো না।
তবে, অবশিষ্ট এই দুই চুক্তির বিষয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে সার্ক পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের কাউন্সিল অব মিনিস্টারস সভায় আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এরপর নেপালের প্রধানমন্ত্রী সমাপণী অনুষ্ঠানের আগত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন এবং তারপরই পরবর্তী অর্থাৎ ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ সমাপণী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সমাপণী সম্মেলনে সবার আগে উপস্থিত হন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা তাকে স্বাগত জানান।
এর পরপরই সমাপণী সম্মেলনে যোগ দিতে সিটি হলে আসেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরীন তবগে এবং তার সাথে সাথেই সিটি হলে প্রবেশ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পরপরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবেশ করেন সিটি হলে। শেখ হাসিনার অনেকটা সাথে সাথেই সিটি হলে আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২৫ মিনিট পরে সমাবেশ স্থলে আসেন মালদ্বীপের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ ইয়ামেন আবদুল গাইয়ুম। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩০ মিনিট পরে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহেন্দা রাজা পাকসে সম্মেলন স্থলে পৌঁছান।
৩৬ দফা কাঠমান্ডু ঘোষণা
কাঠমাণ্ডু ঘোষণায় দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবাধ বাণিজ্য চালু, সার্ক উন্নয়ন তহবিল, যোগাযোগ, জ্বালানি, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ, সাগর অর্থনীতি, ২০১৫ সাল-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অভিবাসন, পর্যটন, সন্ত্রাসবাদ, সুশাসন, সার্ক সচিবালয়সহ সার্কের প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার মতো বিষয়গুলো এসেছে।
ঘোষণায় দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্ক নেতারা নিজেদের সহযোগিতা জোরদারে অঙ্গীকার করেন। এ লক্ষ্যে তাঁরা সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, নিরাপত্তা, অবকাঠামো, যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে- ফলাফলভিত্তিক এমন প্রকল্প, কর্মসূচি ও কার্যক্রম নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কাঠমাণ্ডু ঘোষণায় ইতিপূর্বে সই হওয়া চুক্তি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সার্ক সচিবালয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবছর সার্কের কার্যক্রম ও অগ্রগতি সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তও স্থান পায় ৩৬ দফা কাঠমন্ডু ঘোষণায়।
কাঠমান্ডুর মিডিয়া সেন্টার থেকে





