রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এবং ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য পরিচালিত প্রায় ৫০০ সেনা নিয়ন্ত্রিত ফেসবুক পেইজ বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এসব পেইজের সাথে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত আছে বলে দাবি করা হয়।

যার মাধ্যমে তারা বিনোদনের নাম দিয়ে মূলত রোহ্ঙ্গিাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্ধেষ ছড়াতো।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে একটি ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে উসকানি দেয়ার ক্ষেত্রে ফেসবুক সবচেয়ে বড় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হলেও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সমালোচিত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয় ফেসবুক।

নিষিদ্ধ হওয়া পেইজগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের অনেক জনপ্রিয় ও প্রভাব বিস্তারকারী সাইট রয়েছে। যেগুলো সবসময় বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদ ছড়িয়ে মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসমানদের নির্যাতনে উসকানি দিতো।

এসব বিদ্বেষপূর্ণ ও উসকানির কারণে মিয়ানমারের স্থানীয় বৌদ্ধ ও সেনাবাহিনীর দ্বারা জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে গত বছরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা। যারা রাখাইনে গণহত্যা ও গণধর্ষণের মতো বর্বর কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছিল।

তারপরপরই জাতিসংঘ মানবাধিকার থেকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এসব ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানোর ক্ষেত্রে ফেসবুকের অন্যতম ভূমিকা পালনের কথা দাবি করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক ব্লগ পোস্টে ফেসবুক জানায়, প্রায় ৪২৫ পেইজ, ১৭টি গ্রুপ, ১৩৫ অ্যাকাউন্ট এবং ১৫ ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেসব সাইটগুলো দেখলে স্বাভাবিকভাবে মনে হবে এটি স্বাধীন নিউজ, বিনোদন, রুপচর্চা এবং লাইফস্টাইল কেন্দ্রিক সাইট। কিন্তু এর আগে ফেসবুক থেকে নিষিদ্ধ হওয়া সাইটগুলোর সাথে এগুলোর সম্পর্ক আছে।

এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই রকম পদক্ষেপ নিলো ফেসবুক। এর আগেও দুইবার রোহিঙ্গা গণহত্যায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থকার অভিযোগে অনেক সাইট বন্ধ করে দেয়া হয়।

পেইজ বন্ধ করা ছাড়াও মায়ানমারের কিছু উগ্র বৌদ্ধ মঙ্ক এবং কিছু উপরস্থ সেনাবাহিনী জেনারেল ফেসবুকের ব্ল্যাকলিস্টে আছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

ফেসবুক আরো জানায়, কেউ অ্যাকাউন্ট খুলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াবে এটি কখনও প্রত্যাশা করে না ফেসবুক। নিষিদ্ধ হওয়া সাইটগুলোর মধ্যে এমনও সাইট রয়েছে যার ফলোয়ার প্রায় ২০ লাখের অধিক। পেইজগুলোর নাম "Down for Anything", "Let's Laugh Casually", and "We Love Myanmar" এই ধরনের।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার গত বছর বাংলাদেশে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। পূর্ব থেকে বাংলাদেশে অবস্থান ছিল প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গার মতো। সব মিলিয়ে মোট ১২ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস বর্তমান বাংলাদেশে।


জেড