কাজাখস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আকতোবে শহরে সন্দেহভাজন ইসলামি জঙ্গি-বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার সন্দেহে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (কেএনবি) বরাতে বিবিসি বলছে, বিশেষ বাহিনীর একটি দল আকতোবে শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে চারজন সন্দেহভাজনকে হত্যা করে।
দুটি বন্দুকের দোকান ও সামরিক বাহিনীর একটি ইউনিটের উপর সন্দেহভাজন ইসলামি জঙ্গি-বিদ্রোহীদের হামলায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশের পাল্টা হামলায় হামলাকারীদের ৪ জনও নিহত হয়েছেন।
অপর একজন রাস্তায় গোলাগুলিতে নিহত হন বলে কেএনবি জানিয়েছে।
শুক্রবার চালানো অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে কেএনবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
এখনো পর্যন্ত এই হামলায় কোন গোষ্ঠী জড়িত তা নিশ্চিত করতে পারেনি দেশটির সরকার।
ওই জঙ্গি-বিদ্রোহীদের ওই হামলার পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত অন্ততপক্ষে ১১ জঙ্গি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।
গেল রোববার সন্দেহভাজন জঙ্গিরা আগ্নেয়াস্ত্রের দুটি দোকানে গুলি করে বেসামরিক তিন ব্যক্তিকে হত্যা করে। এরপর একটি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে তিন সেনাকেও হত্যা করে।
ওই হামলার পর হামলাকারীদের মধ্যে চারজন পুলিশের গুলিতে নিহত হলেও বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
এরপরই শহরের অধিবাসীদের ঘরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহভাজন হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করে।
হামলার পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলমাস সাদুবায়েভ বলেন, হামলাকারীরা “মৌলবাদ, অ-প্রথাগত ধর্মীয় আন্দোলনের অনুসারী”।
এই শব্দবন্ধ সাধারণত ইসলামি জঙ্গি-বিদ্রোহীদের বোঝানোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
কাজাখস্তানে ইসলামি জঙ্গি হামলা বিরল।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে এই আকতোবে শহরেই কাজাখস্তানের প্রথম আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল। শহরটি রাশিয়ান সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
রোববারের হামলায় হামলাকারীরা প্রথমে বন্দুকের দোকানে হামলা চালিয়ে বিক্রেতা, একজন রক্ষী এবং একজন সম্ভাব্য ক্রেতাকে হত্যা করে।
এরপর হামলাকারীরা একটি বাস দখল করে সেটি নিয়ে সামরিক বাহিনীর একটি ইউনিট ভবনের গেট ভেঙে ফেলে। এতে তিন সেনা নিহত ও ৯ সেনা আহত হন।
এফএফ





