ডিসেম্বরের পর এবার ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পিত ভারত সফর পিছিয়ে যাচ্ছে। কোনো পক্ষ চূড়ান্ত দিনক্ষণের ঘোষণা না দিলেও ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে সফর আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল দুই দেশ। দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় পিছিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার দিল্লি সফরটি কবে হবে, তা এখন স্পষ্ট নয়।
সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র গত রোববার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পিত ভারত সফরটি হচ্ছে না। দ্বিতীয় দফায় সফরটি পিছিয়ে যাওয়ার পর নতুন দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে সফরটি কেন পিছিয়ে গেল, তা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ধরনের একটি উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দফা পিছিয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী সময়সূচি প্রস্তাব করার ক্ষেত্রে দুই দেশই সব বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে জানিয়েছে, যেহেতু সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তাই পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ১ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের এ বছরের বাজেট অধিবেশনের কারণে ব্যস্ততা থাকবে। বাজেট অধিবেশনের পর উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাবসহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ ব্যস্ত থাকবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ফলে এই সময়ের মধ্যে সফর আয়োজনে অনিশ্চয়তা আছে।
তবে ভারতের সরকারি একটি সূত্র গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির সম্ভাব্য সফরের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। আগামী সপ্তাহে এ নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে এবং ওই বৈঠকে সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
গত সোম ও মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধ থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর অন্তত তিনটি বিদেশ সফর আছে। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তাবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন, মার্চের প্রথম সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ভারত মহাসাগরীয় জোট আইওরার প্রথম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্চে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে সংশয় আছে।
দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রে যোগাযোগ করে জানা গেছে, ডিসেম্বরে সময়সূচির জটিলতাকে কারণ দেখিয়ে সফরটি পিছিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার ফেব্রুয়ারি ও মার্চে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভার কারণে সফর পিছিয়ে নিচ্ছে ভারত। দুই পক্ষ সময়ের জটিলতা ও স্থানীয় নির্বাচনকে প্রধান কারণ হিসেবে বললেও ডিসেম্বরের মতো এখনো তিস্তা নিয়ে অনিশ্চয়তাই সফর পেছানোতে বড় প্রভাবক হয়ে থাকছে। বিশেষ করে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বৈরিতা, স্পষ্ট করে বললে মোদি-মমতার দ্বৈরথ তিস্তা চুক্তিকে এখনো আটকে রেখেছে অনিশ্চয়তার বৃত্তে। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়টিকে সফরের পূর্বশর্ত হিসেবে জুড়ে না দিলেও শেখ হাসিনার সফরে অভিন্ন নদীটির পানিবণ্টনে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার থাকবে। তেমনি চুক্তি সইতে সময় চেয়ে দেড় বছরের বেশি সময় পার করে ফেলেছেন নরেন্দ্র মোদি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ প্রতিবেদককে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৩ জানুয়ারি পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এক আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতামতের পর প্রধানমন্ত্রীর সফরে অন্তত ২০টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও সম্মতিপত্র সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। এসবের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রূপরেখা, ভারত থেকে ঋণচুক্তিতে সমরাস্ত্র কেনাকাটা, মহাকাশ গবেষণা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, সীমান্ত হাটের বিষয় রয়েছে।





