পাকিস্তানে সেনা মোতায়েন করছে চীন। ৩০০০ কিলোমিটার লম্বা চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানে এই বাহিনী পাঠাচ্ছে বেইজিং।

ওই করিডরের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানও তৈরি করে ফেলেছে বিশেষ বাহিনী। তাতে প্রায় ১১ হাজার সৈন্য থাকছে।পাকিস্তানে এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চীন সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর এমন এলাকার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই সন্ত্রাসে হামলায় দীর্ণ। পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশ থেকে এই করিডর শুরু হয়েছে। বেলুচিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে ইরানের কাছাকাছি গোয়াদর বন্দর থেকে করিডর শুরু।

অর্থনৈতিক করিডরের যে অংশ বেলুচিস্তানের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেই অংশের নিরাপত্তা নিয়ে ঘোর চিন্তায় ইসলামাবাদ ও বেইজিং। আরব সাগরের উপকূল বরাবর পূর্ব দিকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বেলুচিস্তান ছেড়ে করিডর ঢুকছে সিন্ধু প্রদেশে। সেখান থেকে পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোর হয়ে, ইসলামাবাদ ছুঁয়ে করিডর ঢুকবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান এলাকায়।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তান ‘আজাদ কাশ্মীর’ নামে ডাকে। গোটা এলাকাই আগে অবিভক্ত ছিল। এখন তাকে দু’ভাগে ভেঙে গিলগিট-বাল্টিস্তানকে দেশের পঞ্চম প্রদেশ হিসেবে পাকিস্তানের সঙ্গে জুড়ে নিতে চাইছে ইসলামাবাদ।

গিলগিট বাল্টিস্তান ছেড়ে করিডর ঢুকছে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে। কাশগড় শহরে পৌঁছে করিডর শেষ হচ্ছে। চীনের এই জিনজিয়াং প্রদেশও সন্ত্রাস কবলিত। পূর্ব চিনের বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে জিনজিয়াং। জনসংখ্যার একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।

বেইজিং-এর বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে এই সম্প্রদায়ের অনেকেই অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন। তাই জিনজিয়াং প্রদেশেও করিডর খুব সুরক্ষিত নয়।এই পরিস্থিতির কথা ভেবেই চীন ৩০০০ সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তানে। গিলগিট-বাল্টিস্তান এবং বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় এই সেনা মোতায়েন থাকবে।

এই অর্থনৈতিক করিডর চীনের পক্ষে খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর দিয়ে চীন সরাসরি আরব সাগর তথা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছে যেতে পারবে। পশ্চিম এশিয়া থেকে জ্বালানি তেল এবং পেট্রোলিয়াম আমদানি করতে চীনকে দীর্ঘ সামুদ্রিক পথ পাড়ি দিতে হত। ইরানের খুব কাছে পাকিস্তানের গোয়াদরে বন্দর তৈরি করে সেই দূরত্ব অন্তত ১২ হাজার কিলোমিটার কমিয়ে ফেলছে বেইজিং।

আমদানিকৃত পণ্য গোয়াদর বন্দরে খালস হওয়ার পর মাত্র ৩০০০ কিলোমিটার পথ সড়কপথে পাড়ি দিয়ে সোজা চীনে ঢুকে যাবে। তাই গোয়াদরের বন্দর এবং এই সড়কপথ নির্মাণে চিন ৪৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই বছরের ডিসেম্বরে করিডর আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে যাওয়ার কথা। তার আগে করিডরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে নিতে চাইছে দুই দেশই।

চিনের পাঠানো ৩০০০ সেনার সঙ্গে করিডরে মোতায়েন থাকবে পাকিস্তানের নিজস্ব বাহিনীও। শুধু করিডরের নিরাপত্তার জন্যই পাকিস্তান তিনটি বিশেষ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড বানিয়েছে। প্রতিটিতে তিনটি করে রেজিমেন্ট। অর্থাৎ মোট ৯০০০ সেনা। এ ছাড়াও গঠন করা হয়েছে দু’টি বিশেষ আর্টিলারি রেজিমেন্ট। অর্থাৎ আরও ২০০০ সেনা। সব মিলিয়ে ১১ হাজারের বাহিনী।

পাকিস্তান হঠাৎ সৈন্যসংখ্যা বাড়ানোয় ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে ভারতের মূল প্রতিবাদ, পাকিস্তানে চীনা সেনা মোতায়েন হওয়া। বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, করিডরের নিরাপত্তার নামে আসলে ভারতের পশ্চিম সীমান্তেও নিজেদের সেনা মোতায়েন করতে চায় চীন।

গিলগিট-বাল্টিস্তানে চীন সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভারত আরো অসন্তুষ্ট। ওই অঞ্চল কাশ্মীরের অংশ। সেই এলাকা নিয়ে বিতর্ক মেটার আগেই পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেখানে সেনা পাঠিয়ে দেওয়াকে ভারত চীনের অনধিকার প্রবেশ হিসেবেই দেখছে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা


এআই