ভারতের ১৯টি পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে গত ২০ বছরে স্বাস্থ্যগত কারণে ৩,৮৮৭ ব্যক্তি মারা গেছেন। এদের মধ্যে ২,৬০০ জন অর্থাৎ ২০ শতাংশই মারা গেছেন ক্যান্সারে। এ সব মৃত্যু হয়েছে ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে। ভারতের তথ্য অধিকার আইন বা আরটিআইয়ের আওতায় এ তথ্য সংগ্রহ করেছেন ভারতের মানবাধিকার কর্মী চেতন কোঠারি।
এ ছাড়া, এতে মুম্বাইয়ের 'ভাবা' আণবিক গবেষণা কেন্দ্র (বিএআরসি) নিয়েও চাঞ্চল্যকর খবর উঠে এসেছে। গত ২০ বছরে এ কেন্দ্রের কর্মীদের মধ্যে ২৫৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রায় প্রতিমাসে একজন করে কর্মী আত্মহত্যা করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, আত্মহত্যাকারীরা হয় দীর্ঘদিন রোগে ভুগছিলেন আর না হয় তাদের পারিবারিক সমস্যা ছিল।
ভারতের ১০টি শীর্ষস্থানীয় ঘাতক রোগের অন্যতম ক্যান্সার। দেশটিতে বার্ষিক মৃত্যুর ৭ শতাংশই হয় ক্যান্সারের কারণে। এ হিসেবে দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ৯৫ লাখ মানুষ ক্যান্সারে মারা যায়। এ সত্ত্বেও ভারতের ডিএই বা আণবিক শক্তি কেন্দ্রগুলোতে উচ্চ হারে ক্যান্সারের মৃত্যুকে বিপদজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রবীণ চিকিৎসক ও বাইকুলা’র জে জে হাসপাতালের সাবেক শিক্ষক ডা. আলতাফ প্যাটেল। তেজস্ক্রিয় উপাদানের সংস্পর্শে আসার কারণে ক্যান্সারে এ সব মৃত্যু হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অবশ্য, ভারতের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে ক্যান্সারে মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে কোনো কোনো চিকিৎসক সংশয় প্রকাশ করেন। তবে ভারতের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ বলেন, সাধারণভাবে ক্যান্সারকে বৃদ্ধ বয়সের অসুখ হিসেবে মনে করা হয়; কিন্তু চাকরিরত অবস্থায় অর্থাৎ ৬০ বছরের নীচে এত বেশি মানুষ ক্যান্সারে মারা গেলে বিষয়টি উদ্বেগজনক হিসেবেই নিতে হবে।
এদিকে, ভারতের চিকিৎসক সমিতির সভাপতি এবং প্রবীণ হরমোন বিশেষজ্ঞ ডা. শশাঙ্ক জোশি বলেন, ভারতের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে যদি উচ্চ হারে ক্যান্সারে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে তবে সেখানকার স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার বিষয়টি জোরদার করতে হবে।
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর,টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই





