[b]নয়াদিল্লি:[/b] বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তার দল আম আদমি পার্টির নেতা-কর্মীরা। গতরাতটি তিনি দিল্লির রেলভবনের সামনের রাস্তাতেই কাটিয়ে দিয়েছেন।
আদমি পার্টির অভিযোগ, নারীর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা দিল্লির পুলিশ। এ ছাড়া, দিল্লির ক্ষমতায় থাকা আদমি পার্টির রাজ্য সরকারের মন্ত্রীর সঙ্গে কয়েকজন পুলিশ অফিসারের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। এই দুই অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন কেজরিওয়াল। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে তার ধর্মঘট।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1390287689.jpg[/img]
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ধর্ণা দিতে যাবার পথে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তার চারজন মন্ত্রীকে আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ৷ পুলিশের বক্তব্য,২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে গোটা রাজপথ এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ৷ তাই সেখানে জমায়েত নিষিদ্ধ৷ ধর্ণার স্থল অন্যত্র,অর্থাৎ যন্তরমন্তরে সরিয়ে নিয়ে যেতো বলা হয়৷ লাউডস্পিকারের তার কেটে দেয় পুলিশ৷ এ নিয়ে আম আদমি পার্টির সমর্থক এবং পুলিশের মধ্যে বচসা হয়,শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি৷ মধ্যদিল্লির চারটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়৷ যার ফল,নিত্যযাত্রিদের হয়রানির একশেষ৷
দক্ষিণ দিল্লির একটি স্থানে যেখানে মূলত আফ্রিকান বসতি,সেখানে নাকি চলে ড্রাগ ও দেহ ব্যবসা৷ দিল্লির আইনমন্ত্রী সোমনাথ ভারতী মধ্যরাতে সেখানে দাঁড়িয়ে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে ঐ সব বাড়িগুলিতে হানা দেবার নির্দেশ দেন৷ পুলিশ অফিসার সে কথায় কান না দিয়ে উল্টে মন্ত্রীকে তল্লাশি ওয়ারেন্ট দেখাতে বলেন৷ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া স্রেফ মন্ত্রীর কথায় তল্লাশি চালানো সম্ভব নয় বলে পুলিশকর্তা৷ এরপর মন্ত্রী স্বয়ং তার দলবল নিয়ে সেই সব বাড়িতে তল্লাশি চালান৷ মন্ত্রী ও তার দলবলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ,আফ্রিকান নারীদের তারা নাকি বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কটুক্তি করেন৷ বর্ণবিদ্বেষী কথাবার্তা বলেন৷ দিল্লির উপ-রাজ্যপালের কাছে এই রকম রিপোর্টই নাকি পুলিশ দিয়েছে৷
আত্মপ্রকাশের কয়েক মাসের মধ্যেই দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ৭০টি আসনের মধ্যে ২৮টিতে জিতেছে আম আদমি পার্টি৷ অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক নতুন একটি দলের এমন সাফল্যকে দেখছেন ‘সাধারণ মানুষের জয়’ হিসেবে৷ তাদের এ জয় কংগ্রেস তো বটেই,এমনকি এ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ৷আম আদমি পার্টি লোকসভা নির্বাচনের জন্য ভোটারদের সামনে বিকল্প পছন্দ হিসেবে উঠে এসেছে৷
দিল্লি সরকারের মন্ত্রীর নির্দেশ কি অমান্য করতে পারে পুলিশ? এক অর্থে পারে৷ কারণ জাতীয় রাজধানী কেন্দ্রশাসিত৷ দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে,দিল্লি সরকারের অধীনে নয়৷ যদিও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আইন-শৃঙ্খলা রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারেই পড়ে৷ আম আদমি পার্টি সরকারের অভিযোগ দিল্লির রাস্তাঘাটে মহিলা হেনস্থা বা ধর্ষণের ঘটনা যেভাবে বাড়ছে, তা বন্ধ করতে দিল্লি পুলিশ সহযোগিতা করছে না৷ ড্রাগ, দেহ ব্যবসা, ধর্ষণ ইত্যাদির মতো ঘটনা ঘটে চলেছে দিল্লির বুকে আর পুলিশ জানে না,এটা মানা যায় না৷ নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও মন্ত্রীর আদেশ অগ্রাহ্য করতে পুলিশ সাহস পায় কী করে? জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল৷ তার দাবি,অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে হয় সাসপেন্ড করা হোক,না হয় বদলি করা হোক৷ নারীদের নিরাপত্তা রক্ষায় পথে নেমেছে আম আদমি পার্টি৷ এর হেস্থনেস্থ করেই ছাড়বো৷ দরকার হলে দিনের পর দিন ধর্ণা চলবে৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্ডের বক্তব্য তদন্ত শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়৷ আর দিল্লি পুলিশকে দিল্লি সরকারের অধীনে আনার প্রশ্নই নেই,বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷
আম আদমি পার্টি সরকারের এই আচরণের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মহল৷ কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, কেজরিওয়ালের উচিত এইসব 'নাটকবাজি' বন্ধ করে প্রশাসনের দিকে নজর দেয়া৷ আন্না হাজারের সমর্থক দিল্লি পুলিশের প্রাক্তন শীর্ষ অফিসার কিরণ বেদি মনে করেন, এক উচ্ছৃঙ্খল রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে চলছে দিল্লি সরকার৷ এটাকে প্রশাসন বলে না৷ ওদিকে পর্যবেক্ষক মহল বলছে, আগামী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত চলবে আম আদমি পার্টির এই কৌশল নীতি। সূত্র: ডি ডাব্লিউ
টাইম নিউজ/এসএমএ
আন্তর্জাতিক
রাস্তায় রাত কাটালেন, বৃষ্টিতে ভিজলেন 'জনতার নেতা'
নয়াদিল্লি: বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তার দল আম আদমি পার্টির নেতা-কর্মীরা। গতরাতটি তিনি দিল্লির রেলভবনের সামনের রাস্তাতেই কাটিয়ে দিয়েছেন।





