আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে নিজামীর ফাঁসির খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পাকিস্তানের প্রথম সারির দৈনিক DAWN তাদের প্রতিবেদন করেছে, Bangladesh executes top Jamaat leader Motiur Rahman over '1971 war crimes'।
BBC তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘Motiur Rahman Nizami: Bangladeshi Islamist leader hanged'
theguardian এর শিরোনাম হচ্ছে `Bangladesh executes leader of largest Islamist party'
The New Work Times তাদের প্রতিবেদন হচ্ছে `Bangladesh Braces for Violence After Opposition Leader Is Executed'
Financial Times প্রতিবেদন করেছে, ‘Bangladesh hangs Islamist leader Nizami'
বহুল প্রচারিত গণমাধ্যম Al Jazeera তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে বলেছে, ‘Bangladesh hangs Motiur Rahman Nizami for war crimes'
ভারতীয় গণমাধ্যম এবিপি আনন্দ শিরোনাম করেছে, ‘জামাত ই-ইসলামি প্রধান নিজামির ফাঁসি কার্যকর।’
পাকিস্তানের দৈনিক শিরোনাম করছে, নিজামীকে ফাঁসি দিয়ে বাংলাদেশ জুলুম করেছে: পাকিস্তান জামায়াত।
বিবিসি অনলাইন খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের একজন ইসলামপন্থী নেতাকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার অপরাধের মামলায় ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।
মতিউর রহমান নিজামীকে (৭৩) স্থানীয় সময় বুধবারের শুরুতে ফাঁসি দেয়া হয় বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
গণহত্যা, ধর্ষণ এবং নির্যাতনের অভিযোগে তাকে দণ্ডিত করা হয়।
নিজামী ছিলেন বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রধান।
তার ফাঁসিতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে উল্লাস করেছে কয়েক মানুষ।
২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে তাদের মধ্যে নিজামী পঞ্চম এবং সর্বোচ্চ পদাধিকারী।
বাংলাদেশ সরকার বলছে, সংঘাতের ক্ষত নিরসনে বিচার জরুরি ছিল। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে বিচারে আন্তর্জাতিক মান এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির ঘাটতি ছিল।
‘ন্যায়বিচারবঞ্চিত’
গত সপ্তাহে নিজামী তার চূড়ান্ত আপিলে হেরে যান।
‘নিজামীকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার,’ বলছিলেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ।
বৃহস্পতিবার হরতাল ডেকেছে জামায়াত। ফাঁসির আগে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে নিজামী হচ্ছেন জামায়াতের চতুর্থ নেতা যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো।
নিজামী হচ্ছেন একজন সাবেক মন্ত্রী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব যাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
স্বাধীনতাপন্থী কর্মীদের চিহ্নিত করতে তিনি একটি মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিজামীকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে (হয়েছে)।
ফাঁসি কার্যকরের আগে তার পরিবারের সদস্যরা কিছুক্ষণের জন্য তার সাথে সাক্ষাৎ করেন কিন্তু গণমাধ্যমের সাথে কোনো কথা বলেননি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কত মানুষ নিহত হয়েছে তার সঠিক সংখ্যা স্পষ্ট নয়। এই সংখ্যা ৩০ লাখ দাবি করা হলেও নিরপেক্ষ গবেষকদের মতে, নিহতদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ লাখ হতে পারে।
‘বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত-ই-ইসলামীর নেতাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হলো’ শিরোনামে স্ক্রল দেওয়ার কিছুক্ষণ পর আল জাজিরা তাদের প্রধান খবর হিসেবে প্রচার করতে থাকে এ খবরটি।
স্ক্রলকেই শিরোনাম বানিয়ে এ খবরে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত করার দায়ে নিষিদ্ধঘোষিত জামায়াত-ই-ইসলামীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে বাংলাদেশ।’
গুরুত্ব দিয়ে এপির প্রকাশ করা এ সংক্রান্ত সংবাদের শিরোনাম করা হয়, ‘বাংলাদেশে ইসলামী দলের নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে করা এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ইসলামী দলের প্রধানকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।’
এপির বরাত দিয়ে প্রায় একই ধরনের খবর প্রচার করে ওয়াশিংটন পোস্টও।
নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত খবরের শিরোনামে লেখা হয়েছে ‘বাংলাদেশে বিরোধী নেতার ফাঁসিতে সহিংসতার আশঙ্কা’।
খবরে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাধীনতাযুদ্ধে গণহত্যার অপরাধে বাংলাদেশে এক জ্যেষ্ঠ বিরোধী নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় সহিংসতার আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। মতিউর রহমান নিজামী নামে বিরোধী ওই নেতা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী দল জামায়াত-ই-ইসলামীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।’
এএফপির এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটির শিরোনাম করা হয়, ‘যুদ্ধাপরাধের দায়ে বাংলাদেশে শীর্ষ ইসলামী নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর’।
যুদ্ধাপরাধের দায়ে সবচেয়ে বড় ইসলামী দলের নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর জানিয়ে প্রতিবেদনটিতে অদ্ভূতভাবে দাবি করা হয়, ‘এই পদক্ষেপ মুসলিম-প্রধান অস্থিতিশীল দেশটিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।’
পাকিস্তানের ডন অলাইন এই খবর এএফপির বরাত দিয়ে প্রচার করলেও শিরোনাম করেছে তাদের নিজেদের মতো। শিরোনামে শীর্ষ জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা বলা হলেও তার অপরাধকে কোটেশন করে লেখা হয়েছে, ‘১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধের জন্য’।
তবে, প্রতিবেদনের শুরুটি ঠিক এএফপির মতোই করা হয়।
এছাড়া তৎক্ষণাৎ গুরুত্বের সঙ্গে খবরটি প্রচার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এপি, ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, ইয়াহু নিউজ, যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান, ডেইলি মেইল, জার্মানির ডয়েচে ভেলে, ভারতের এনডিটিভি, দ্য হিন্দু, ওয়ানইন্ডিয়া, ফিলিপাইনের ৠাপলার.কম, ইসরায়েলের জেরুসালেম পোস্ট, লেবাননের ডেইলি স্টার, ফ্রান্সের ফ্রান্সটোয়েন্টিফোর.কম, পাকিস্তানের পাকিস্তান টুডে প্রভৃতি সংবাদমাধ্যম।
ওএফ/এমবি





