পলিনেশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ভেসে থাকা ছোট ছোট অনেকগুলো দ্বীপকে একসাথে এই নামে ডাকা হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় মাঝখানে ১৩০টির মতো দ্বীপ নিয়ে পলিনেশিয়া অঞ্চল গঠিত। পলিনেশিয়া, মেলোনেশিয়া আর মাইক্রোনেশিয়া; প্রশান্ত মহাসাগরের এই তিন অঞ্চল এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নিয়ে ওশেনিয়া বা অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ। বিষুব বা নিরক্ষরেখার উত্তরে মাইক্রোনেশিয়া, নিরক্ষরেখা বরাবর হলো মেলোনেশিয়া, আর প্রশান্ত মহাসাগরের ঠিক মাঝখানে পলিনেশিয়া। ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে এসব অঞ্চল।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400914691.jpg[/img]
পলিনেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া ও মেলোনেশিয়ার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এসব দ্বীপের অনেকগুলোতেই মানব বসতি নেই। যেগুলোতে আছে সেগুলোতেও মিশ্র সংস্কৃতির মানুষ। সেখানে মুসলমানদের উপস্থিতি বিস্ময়কর, ছোট ছোট এসব দ্বীপে রয়েছে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ। কীভাবে সেখানে মুসলমানদের বাস এবং তাদের বর্তমান অবস্থানই বা কী? এসব নিয়েই আজকের আমাদের এ আয়োজন।    
[b]ইতিহাস:[/b] পলিনেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া আর মেলোনেশিয়ায় ইসলামের আগমন প্রায় ৪০০ বছর আগে। ১৬০০ শতকে নিউ গিনি (বর্তমানে পাপুয়া নিউগিনি) থেকেই মূলত ইসলামের প্রসার হয়েছে এসব ক্ষুদ্র দ্বীপে। উল্লেখ্য, পাপুয়া নিউগিনি হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার সীমানাঘেঁষা ওশেনিয়ার অন্তর্ভূক্ত একটি বড় ধরনের দ্বীপরাষ্ট্র। প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় সেখানে ইসলামের আলো পৌঁছে খুব সহজেই। আর সেখান থেকেই মূলত পলিনেশিয়ার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপগুলোতে মুসলমানরা ছড়িয়ে পড়েন।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400914723.jpg[/img]
আজকের বিশ্বে অনেকের কাছেই অজানা, পলিনেশিয়ার নিভৃত এসব দ্বীপে মুসলমানরা বাস করে আসছেন শত শত বছর ধরে। আন্তর্জাতিক সাইটগুলোতে ব্যাপক ঘাটাঘাটি করেও পলিনেশিয়ান মুসলমানদের সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। তাদেরকে ইতিহাসের পাদ প্রদীপ থেকে হারিয়ে দেয়ার বা মুছে ফেলার একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ জানা যায়। বিশেষ করে ফরাসিরা যখন পলিনেশিয়ার দ্বীপগুলোকে দখল করে নেয় তখন মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়ন ও তাদেরকে ইসলামিক সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার সব ধরনের অপচেষ্টাই করা হয়। তবুও প্রশান্ত মহাসাগরের পলিনেশিয়া, মেলোনেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া তথা গোটা ওশেনিয়া মহাদেশেই ইসলাম একটি বর্ধনশীল ধর্ম।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400914747.JPG[/img]
নিউগিনির মুসলিম ব্যবসায়ীরা যখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য করতেন তখন মূলত তারা এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপে ইসলামের প্রসার ঘটান। উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরের এই বেল্টে ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, ওশেনিয়া মহাদেশ অবস্থিত। ১৮৭৯ সালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ফিজিতে মুসলিমদেরকে শ্রমিক হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়।    
সাম্প্রতিককালের এক জরিপ অনুযায়ী, পুরো ওশেনিয়া মহাদেশে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৩৯৫ জন মুসলমানের বাস। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়াতে ৩ লাখ ৯৯ হাজার, নিউজিল্যান্ডে ৩৬ হাজার ৭২, ফিজিতে ৫৪ হাজার ৩২৩, নিউ ক্যালিডোনিয়াতে ৬ হাজার ৩৫০, পাপুয়া নিউ গিনিতে দুই হাজার, সলোমন দ্বীপপুঞ্জে ৩৫০, ভানুয়াতুতে ২০০, টোঙ্গায় ১০০ জন মুসলমানের বাস। এ ছাড়া কিরিবাতি ও সামোয়াতেও অল্প সংখ্যক মুসলমান রয়েছেন।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400914772.jpg[/img]
'প্যাসিফিক ম্যাগাজিন' নামের একটি সাময়িকী ২০০৭ সালের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওশেনিয়ায় এখন দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। ওশেনিয়ায় ইসলামের এই প্রসারকে 'গ্রিন মুন রাইজিং' নামে অভিহিত করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। সেখানে বলা হয়েছে- ভানুয়াতু, ফিজি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, পাপুয়া নিউ গিনি ও নিউ ক্যালিডোনিয়ায় ইসলাম খুব দ্রুত প্রসার পাচ্ছে। মেলোনেশিয়ার দ্বীপগুলোতে কয়েক হাজার মুসলমান রয়েছেন, যারা আদিবাসী সম্প্রদায়ের, তারা একসময় প্রকৃতি পূজা করতেন।
এ ছাড়া, পলিনেশিয়ার স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র পালাউয়ে ৫০০ মুসলমান অধিবাসী রয়েছেন। সেখানে মার্কিন কুখ্যাত কারাগার গুয়ানতানামো বে থেকে কিছু মুসলমানকে পালাউয়ে বসবাসের অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। এসব মুসলমান চীনের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ জিনজিয়াংয়ের উইঘুর সম্প্রদায়ের।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400914795.jpg[/img]
তাছাড়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় মার্কিন মালিকানাধীন দ্বীপ মার্শাল আইল্যান্ডসে ১০ জন মুসলমান বাস করেন। ক্ষুদ্র দ্বীপ নাউরুতে ১৯৪৭ সালে ১৪৭৬ জন অধিবাসীর মধ্যে ৩৪ জন ছিলেন মুসলিম। অথচ, ২০০২ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১০ হাজারেরও বেশি অধিবাসীর মধ্যে একজনও মুসলমান নেই।
পলিনেশিয়ার কুক আইল্যান্ডে ৬ জন মুসলমানের বাস। আমেরিকান সামোয়াতে ১৯৯০ সালের হিসেব অনুযায়ী ১২ জন মুসলমানের বাস ছিল এই দ্বীপে।
ওশেনিয়া অর্থ্যাৎ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পলিনেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া ও মেলোনেশিয়ার মুসলমানদের সম্পর্কে প্রকৃত তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে আরো তথ্য জানা গেলে তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। আমাদের সঙ্গে থাকুন।
সূত্র: আইএসিএসআইটি, ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট, মুসলিম পপুলেশন ইন ওশেনিয়া (১৯৫০-২০২০)- হুসাইন কেত্তানি, মুসলিম সোসাইটিস ইন এশিয়া এন্ড দ্যা প্যাসিফিক, ইসলাম ইন প্যাসিফিক, পলিনেশিয়ান ইউনাইটেড মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন, এমএসএপি, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ও উইকিপিডিয়া অবলম্বনে।
[b]ঢাকা, এমএ, ২৪ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]