ভারতের উত্তরপ্রদেশে এক মুসলিম ছাত্রীকে স্কুলে হিজাব না পড়ে আসার নির্দেশ দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। হিজাব স্কুলের ‘পোশাকবিধির’ সঙ্গে খাপ খায় না বলে জানানো হয়।

একই সঙ্গে পোশাকবিধি না মেনে চললে ওই ছাত্রীকে ইসলামিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন স্কুলের অধ্যক্ষা।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে উত্তরপ্রদেশের প্রাথমিক শিক্ষা দফতর। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ এখনো নোটিশের জবাব দেয়নি বলে জানা গেছে।

বুধবার মাথায় রুমাল বাধার কারণে উত্তরপ্রদেশের বাগপাতে তিন মাওলানাকে হেনস্থা করা হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এক মুসলিম ছাত্রীকে হিজাব না পড়ে স্কুলে আসার নির্দেশে তৈরি হল বিতর্ক।


যোগীর রাজ্যে নগর কোটওয়ালির আনন্দ ভবন নামে এক মিশনারি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রীর বাবা মোহাম্মদ আর রিজভি স্কুলের অধ্যক্ষা অর্চনা থোমাসকে একটি চিঠি লেখেন।

সেখানে তিনি অধ্যক্ষাকে অনুরোধ করেন, তার মেয়েকে হিজাব পড়ে স্কুলে আসার অনুমতি দেয়া হোক। কিন্তু স্কুলের নিয়মনীতির কারণ দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ছাড় দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন অধ্যক্ষা।

একই সঙ্গে তার পরামর্শ, স্কুলের নিয়মনীতির সঙ্গে মানিয়ে না চলতে পারলে মেয়েকে কোনো ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দিন। তাছাড়া স্কুলের পোশাক বিধির সঙ্গে হিজাব মানায় না।

এরপরই জেলা প্রশাসনকে চিঠি লিখে বিস্তারিত জানান মোহাম্মদ আর রিজভি। তিনি বলেন, শিখ ছেলেরা যদি পাগড়ি পড়ে স্কুলে আসতে পারে তাহলে আমার মেয়ের হিজাব পড়তে বাধা কোথায়? পাগড়ি পড়াটাও তো স্কুলের পোশাক বিধির মধ্যে পড়ে না।

যদিও স্কুল অধ্যক্ষার দাবি, তিনি ওই ছাত্রীকে স্কুল ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেননি। অর্চনা থোমাস জানান, স্কুলের নিয়মনীতি মেনে চলার ক্ষেত্রে যদি তাদের সমস্যা থাকে তাহলে তারা মেয়েকে ইসলামিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অন্য কোনো স্কুলে পাঠাতেই পারেন। পাগড়ি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্কুলে কোনো শিখ পড়ুয়া নেই।

এএস