সব ধর্মকে সমানভাবে গুরুত্ব না দিয়ে, বিশেষ কিছু ধর্মকে গুরুত্ব দেয়ার অভিযোগ এনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা নৈশভোজ অনুষ্ঠান বয়কট করছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফ।

গুড ফ্রাইডে উপলক্ষে আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে আমন্ত্রিত রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা, সব হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, এমনকি দেশের ২৯টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও।

তবে এর আগেই গত ১ এপ্রিল শুধু খ্রিষ্ট বা হিন্দু ধর্মকে অগ্রাধিকার না দিয়ে সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের দেশ ভারতবর্ষে সব ধর্মকেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফ।

শুধু তাই নয়, চিঠিতে একথাও তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সমস্ত পবিত্র দিনগুলিকে সমানভাবে মর্যাদা দিতে হবে। আর যেহেতু বিশেষ বিশেষ কিছু ধর্মকেই এই সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, তাই গুড ফ্রাইডে উপলক্ষ্যে আয়োজিত মোদির ডাকা নৈশভোজ অনুষ্ঠান বয়কট করছেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এইচ এল দাত্তুরকেও ঠিক একই চিঠি লিখেছিলেন জোসেফ।

সুপ্রিম কোর্টের উচ্চপদস্থ তিন বিচারপতি, ২৪টি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের নিয়ে তিন দিনের একটি সম্মেলন শুরু হয়েছে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে। যা শুক্রবার অর্থাৎ গুড ফ্রাইডে থেকে শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে পড়েছে খ্রিস্টানদের পবিত্র উৎসব গুড ফ্রাইডে এবং ইস্টার্ন সানডে। এই সম্মেলন ডাকার সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি কুরিয়ান।

প্রধান বিচারপতি এইচ এল দাত্তুকে লেখা চিঠিতে বিচারপতি কুরিয়ান লিখেছেন, ওই সম্মেলনটি এমন একটা সময়ে আহ্বান করা উচিত ছিল না। তিনি আরও লিখেছেন, এ ধরনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান দীপাবলী, হোলি, দশেরা বা ঈদের মতো ধর্মীয় উৎসবের দিনে হয় না। এই বিষয়টি উল্লেখ করে বিচারপতি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কোনও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই উদাহরণ দিচ্ছেন না।

এই চিঠির পাল্টা জবাব দিয়েছেন প্রধান বিচারপতিও। তিনি বলেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ বা ব্যক্তিগত স্বার্থ, কোনটিকে তিনি বেছে নেবেন তা বিচারপতি কুরিয়ানের ওপরই নির্ভর করছে।

বিচারপতি কুরিয়ানকে লেখা চিঠিতে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পরিবারের সঙ্গে একত্রিত হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ হলে তিনি সবাইকে দিল্লিতেই ডেকে নিতে পারতেন।

এদিকে, প্রধান বিচারপতিকে সমর্থন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি কে টি টমাস। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, খ্রিস্টানরা কেনো গুড ফ্রাইডের দিন কাজ করতে পারবেন না। আমেরিকায় তো এই দিনে ছুটি নেই। কিন্তু ভারতে সবাই ছুটি-সংস্কৃতির প্রতি আচ্ছন্ন।

জেডআই