ভারতের জেলেরা শ্রীলঙ্কার জলসীমায় অনুপ্রবেশ করলে তাদের গুলি করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিঙ্গে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন কলম্বো সফরের আগে তাঁর এ বক্তব্য ভারতে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, তাঁরা দ্বিপক্ষীয় সংলাপে জোরালোভাবে জেলেদের বিষয়টি তুলবেন এবং আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান করতে হবে। খবর এনডিটিভির।

তামিল ভাষার টিভি চ্যানেল থানথিকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় জেলেরা উত্তর শ্রীলঙ্কার মৎস্যজীবীদের জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে।

বিক্রমাসিঙ্গে বলেন, ‘কেউ যদি আমার বাড়িতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে, তাহলে আমি গুলি করতে পারি। এতে যদি তার মৃত্যুও হয়...দেখুন আইন আমাকে এটা করার অধিকার দিয়েছে।’

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কথা যদি বলেন, তাহলে বলব, আমার অবস্থান খুবই কঠিন। এটা আমাদের সমুদ্রসীমা। জাফনার জেলেদের সেখানে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া উচিত। আমরা তাদের সে অনুমতি দিচ্ছি না। সে সুযোগে ভারতের জেলেরা মাছ ধরছে।’

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রস্তুতি নিতে শুক্রবার দুই দিনের সফরে কলম্বো যান। তাঁর উপস্থিতির মধ্যেই দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। ২৫ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম দ্বিপক্ষীয় শ্রীলঙ্কা সফর হবে।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দিন গতকাল শনিবার বলেন, ‘ভারত ও শ্রীলঙ্কা বিষয়টিকে একটি মানবাধিকার ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছে, যা একটি আবেগগত বিষয়। চটজলতি উপায়ে এটি হুট করেই সমাধান করে ফেলা সম্ভব নয়। বন্ধু ও সমুদ্র উপকূলীয় প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের এ নিয়ে কাজ করতে হবে।’ তিনি সমস্যাটির শান্তিপূর্ণ সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সুষমা স্বরাজ শুক্রবার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সিরিসেনা বলেন, শ্রীলঙ্কা ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ।

বেশ কয়েক বছরে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী প্রায় ৬০০ ভারতীয় জেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে—এ মর্মে অভিযোগের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বিক্রমাসিঙ্গে বলেন, সম্প্রতি এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে ২০১১ সালে।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই নিহতের একটা অংশ ছিল গৃহযুদ্ধের সময়। নৌবাহিনীর ধারণা ছিল এরা অনেকে গেরিলাদের অস্ত্র সরবরাহে লিপ্ত ছিল।

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা বলেছেন, নিকট-প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কই হবে তাঁর পররাষ্ট্রনীতির প্রধান গুরুত্বের বিষয়। আগের মাহিন্দা রাজাপক্ষের সরকার আরেক আঞ্চলিক পরাশক্তি চীনের সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠতার নীতি অনুসরণ করে আসছিল, সিরিসেনা দৃশ্যত তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

জেএ