মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর শরীরে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার বেশ কিছু সময় পর হার্ট অ্যাটাকে আসামী মারা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘটনায় বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নিয়ম রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই নিয়ম মেনে মঙ্গলবার রাতে ক্লেটন লকেট (৩৮) নামের একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর রায় কার্যকর করা হয়।
তিনি ১৯৯৯ সালে গুলি করে ১৯ বছর বয়সী এক নারীকে হত্যা করেছিলেন।
বিবিসি ও সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে ক্লেটন লকেটের শরীরে  ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পর তার হৃৎপিণ্ডে রক্তবাহী শিরা ফেটে যায়। সে যন্ত্রণায় মোচড়াতে থাকে।
এই দৃশ্য দেখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া থামানোর নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশের পর ৭টা ৬ মিনিটে হার্ট অ্যাটাকে মারা যায় আসামী।
ঘটনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহামা জেলের মুখপাত্র জেরি মেসি বলেছেন, আমাদের বিশ্বাস যে, আসামীর হৃৎপিণ্ডে রক্তবাহী শিরা ফেটে গিয়েছিল। ফলে প্রাণঘাতী ঔষধ যথাযথভাবে কাজ করেনি। তাই পরিচালক রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া থামানোর নির্দেশ দেন।
আসামী যখন যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন তখন জেলের কর্মকর্তারা একটি পর্দা টেনে দেন। পর্দা টেনে দেওয়ার উদ্দেশ্য, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা যাতে মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিটির যন্ত্রণা দেখতে না পারে।
এ বিষয়ে এপি'র সাংবাদিক বেইলি এলিস ম্যাকব্রাইড টুইটারে লিখেন, "যখন (ঔষধের কার্যকারিতা) প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল তখন সে ছিল সচেতন। তার চোখ পিট পিট করছিল, সে জিহ্বা চাটছিল। এরপর সে নিথর হতে লাগল।"
ক্লেটন লকেটের আইনজীবী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মেডিলাইন কোহেন বলেছেন, রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়াটি কদর্যভাবে সম্পাদন করা হয়েছে এবং এটা দেখা খুবই কঠিন ছিল। তিনি আরো বলেন, তার মক্কেলকে নির্যাতন করে মারা হয়েছে। রায় কার্যকরের সময় কী ভুল হয়েছিল, সেটা তদন্ত করতে হবে।
এ ঘটনার পর মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত অপর আসামী চার্লস ওয়ারেনের মৃত্যুদণ্ড ১৪ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১৯৯৭ সালে ১১ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
ক্লেটন লকেটের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ২ ঘন্টা পর চার্লস ওয়ারেনের রায় কার্যকর করার কথা ছিল। সূত্র: সিবিএস, বিবিসি, ওয়ার্ল্ডবুলেটিন।
[b]ঢাকা, ৩০ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি) // টিআই[/b]