ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাট দলীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনকে আটকাতে পারল না রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন সিনেট।
চুক্তিটি আটকাতে রিপাবলিকান অনেক সিনেটের প্রকাশ্যে চেষ্টা করলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবেশিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটে চুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন সিনেটররা। বারাক ওবামার ছয় বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পররাষ্ট্রনীতি বিষয় সম্ভবত এটিই তার সর্বোচ্চ সফলতা।
ইরানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে উত্থাপিত প্রস্তাবের বিপক্ষে ৪০ জন ডেমোক্র্যাট দলীয় ও ২ জন স্বতন্ত্র সদস্য ভোট দেন। ১০০ জনের পরিষদে নূন্যতম যে ক'জন সদস্যের বিপক্ষে ভোটের প্রয়োজন ছিল, তার চেয়ে একটি ভোট বেশি পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
বারাক ওবামা এটিকে "অগ্রগামী হওয়ার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ" বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, "কূটনীতি, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিশ্বের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য এই ভোট একটি বিজয়।"
তবে সিনেটের রিপাবলিকান সদস্যরা বলেছেন যে এই লড়াই এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি।
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ট রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল তৎক্ষণাৎ এই বিষয়টিকে পুনরায় বিবেচনা করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা ডেমোক্র্যাট দলের কয়েক জন সদস্য পরবর্তীতে তাদের মত পরিবর্তন করতে পারেন।
ম্যাককনেল বলেছেন, "আমরা পরের সপ্তাহে বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করব। আমরা দেখতে চাই, কেউই তাদের মত পরিবর্তন করেন কিনা।"
গত মে মাসে ওবামা চুক্তি বিষয়ক বিলে স্বাক্ষর করেন। আইনানুসারে আন্তর্জাতিক এ চুক্তিটি বাতিল করতে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব পাস করতে হবে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের সেই মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।
যদি এই প্রস্তাব পাস হত, তাহলে ওবামা প্রশাসন তেহরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারত না। কিন্তু পরমাণু চুক্তির এটিই ছিল প্রধান শর্ত।
তবে ভোটের ফলাফল পাল্টে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই বলে জানিয়েছেন সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা হ্যারি রেইড। স্পষ্টভাবে তিনি বলেছেন, "বিষয়টি পুরোপুরি মীমাংসিত হয়ে গেছে।"
ম্যাককনেলকে অন্য বিষয় মনোযোগ দিতে অনুরোধ করেছেন রেইড। দীর্ঘ মেয়াদী মহাসড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য তহবিল গঠন, ১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া অর্থ-বছরে জরুরী সরকারি তহবিল এবং সরকারি শাটডাউন (বন্ধ) এড়ানোর জন্য বিল উত্থাপন করতে বলেছেন তিনি।
রেইড বলেছেন, "এটা এমন একটি অবস্থা, যেখানে তিনি ভোটে ব্যর্থ হয়েছেন এবং বাস্তবে যা আছে সে বিষয় তিনি অবগত নয়।"
ইসরায়েল-সমর্থক রক্ষণশীলরা এই বিলটি আটকাতে তদবিরের পিছনে ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩২০ কোটি টাকা) খরচ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানির সঙ্গে দীর্ঘ দুই বছর ধরে আলোচনার পর চুক্তিতে সই করে ইরান। কিন্তু ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই চুক্তির বিরোধিতা করেন।
নেতানিয়াহু বলেছেন, এই চুক্তির ফলে ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হবে এবং ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য আরো বেশি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
ইসরায়েল দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করে আসছিল যে ইরান পারমানবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইরান বার বার তা অস্বীকার করে আসছে ও দাবি করছে যে শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের (বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা) জন্য তারা পারমানবিক চুল্লি তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এখন পর্যন্ত ইরানের পরমাণু অস্ত্রের বিষয় কোনো প্রমাণ পায়নি।
জেডআই





