[b]তেলআবিব:[/b] সিরিয়ার অভ্যন্তরে দুটি 'বাফার জোন' গঠন করার পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। আল কায়েদা ও আসাদ সরকারের সামরিক হুমকিকে মোকাবেলা করতেই এই বাফার জোন দুটি করা হবে বলে জানা গেছে। বাফার জোন দুটিতে ব্যাপক সৈন্য সমাবেশও করবে ইসরাইল।
ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে এ তথ্য ফাঁস করেছে দেশটির একটি নিউজভিত্তিক ওয়েবসাইট 'দেবকাফাইল'। দেবকাফাইলকে উদ্ধৃত করে শনিবার এ খবর প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ডবুলেটিন।
ওয়ার্ল্ডবুলেটিনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বাফার জোন দুটির প্রথমটি গঠন করা হবে জর্ডানের সীমান্ত বরাবর সিরিয়ার অভ্যন্তরে। এটি ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৭৫ কিলোমিটার প্রশস্ত হবে। অপর বাফার জোনটি গঠন করা হবে সিরিয়া-ইসরাইল সীমান্তে। সেখানে বিতর্কিত গোলান মালভূমির দক্ষিণাঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ৩০ কিলোমিটার প্রস্থবিশিষ্ট দ্বিতীয় বাফার জোনটি গঠন করা হবে।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়েছে, প্রায় তিন বছরব্যাপী চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ইসরাইল নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে আসলেও এখন থেকে আর নিরপেক্ষ থাকছে না। সিরিয়ায় আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট সরকারবিরোধী সশস্ত্র 'আল নুসরা ফ্রন্ট' ও ইরাকের সিরিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড দ্যা লেভান্ট (আইএসআইএল)-এর তৎপরতা রুখতেই এ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ইসরাইল। এমনটাই জানিয়েছে ইসরাইলি ওয়েবসাইটটি। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে এ দুটি সংগঠনের তৎপরতা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
বাফার জোন দুটিতে ব্যাপকহারে সেনা মোতায়েন করা হবে। জোন দুটিতে আমেরিকা, ইসরাইল ও জর্ডানের অনুমোদনপ্রাপ্ত আসাদবিরোধী সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে আশ্রয় দেয়া হবে।
জর্ডান সীমান্ত ঘেঁষা পরিকল্পনাধীন প্রথম বাফার জোনটিতে বর্তমানে দ্রুজ সম্প্রদায়ের এক লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। এলাকাটির ১২০টি গ্রামজুড়ে তাদের বাস। দ্রুজ সম্প্রদায়ের লোকজন সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে জড়িত ছিল না। কিন্তু আল কায়েদার যোদ্ধারা এলাকাটিতে অনুপ্রবেশ করায় তারাও গৃহযুদ্ধের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, গোলান মালভূমিতে যে দ্বিতীয় বাফার জোনটি করা হবে সেখানে প্রায় তিন লাখ লোকের বাস।
তবে, প্রকৃতপক্ষে বাফার জোন গঠনের প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু শুরু হয়েছে। ২০১০ সালের এপ্রিলে সিরিয়া সীমান্ত বরাবর জর্ডানের মাফরাকের কিং হুসেইন এয়ারবেসে মার্কিন সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সের ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। তাদের কাজ ছিল সিরিয়ার আসাদ সরকার বিরোধী সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া। তাদের সঙ্গে জর্ডানের সেনাবাহিনীও কাজ করেছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সিরিয়ার সরকারবিরোধী যোদ্ধাদেরকে সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সৈন্যদের মতোই গড়ে তোলা হয়। ওয়ার্ল্ডবুলেটিনের প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, মূলত তখন থেকেই জর্ডান সীমান্ত বরাবর সিরিয়ার ওই অঞ্চলটিতে বাফার জোন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সূত্র: ওয়ার্ল্ডবুলেটিন
ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএমএ