ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের ত্রাল ও নিয়ন্ত্রণরেখার রামপুর সেক্টরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গত ২৪ ঘণ্টায় হিজবুল মুজাহিদীনের শীর্ষনেতা সাবজার আহমেদ ভাটসহ ১০ জন নিহত হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামীকাল (রোববার) থেকে শ্রীনগরের ৮ থানা এলাকায় কঠোরভাবে কারফিউ জারি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে হুররিয়াত কনফারেন্সের পক্ষ থেকে আগামী রোববার ও সোমবার পরপর দু’দিন ধরে বনধের ডাক দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ‘ত্রাল চলো’ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কাশ্মির উপত্যাকায় মোবাইল ইন্টারনেটে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অনন্তনাগ, সোপিয়ান, সোপর, নৌহাট্টা, খানইয়ার, রায়নাবাড়ি, এম আর গঞ্জ, সাফাকদল, মৈসুমাসহ বিভিন্নস্থানে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা বন্ধ করাসহ বারামুল্লা থেকে বানিহালের মধ্যে রেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত ২৬ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপসহ ২২ টি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। মাত্র ১২ ঘণ্টা আগেই সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পরেই সেখানে নয়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হল।
গত ১১ মে জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে এক আবেদনে ইন্টারনেটে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়।
গেরিলা নেতা সাবজার আহমেদ ভাট ও অন্যরা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আজ (শনিবার) গোটা কাশ্মির বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে উত্তেজিত জনতা দক্ষিণ কাশ্মীরের বিভিন্নস্থানে পাথর ছুঁড়লে মাথায় গুরুতর আঘাত পান সিআরপিএফের এক কমান্ডান্ট।
অন্যদিকে, বিভিন্নস্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক ডজনেরও বেশি প্রতিবাদী জনতা আহত হয়। আজ অনন্তনাগ, শ্রীনগর, বারামুল্লা, পুলওয়ামা এবং সোপিয়ানের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
গোটা উপত্যাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জেড





